আমদানি ব্যয়ের ১৫১ কোটি টাকা পরিশোধ

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৮:১৪ এএম

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল সময়ের আমদানি বিল বাবদ ১৫১ কোটি ৪০ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এ অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সমন্বয় করা হবে। ফলে আগামী কয়েক দিনে দেশের রিজার্ভে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ডলারের বাজারেও নতুন করে চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে দিন শেষে দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহারের উপযোগী রিজার্ভ রয়েছে ৩০ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকুর বিল পরিশোধের পর সাধারণত রিজার্ভ কমে যায়। যদিও হিসাব সমন্বয়ের কারণে এর প্রভাব কয়েক দিন পর দৃশ্যমান হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আকুর মাধ্যমে দুই মাস অন্তর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন নিষ্পত্তি করা হয়। বাংলাদেশ যেহেতু আমদানিনির্ভর দেশ, তাই রপ্তানির তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় নিয়মিত বড় অঙ্কের ডলার পরিশোধ করতে হয়।

এর আগে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ের আকু বিল ছিল ১৩৬ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। তারও আগে নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে পরিশোধ করা হয় ১৫৩ কোটি ডলার এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে ১৬১ কোটি ডলার। এছাড়া আরও আগের দুই মাসে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে উচ্চ অঙ্কের বিল পরিশোধ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমানে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় কিছুটা ইতিবাচক ধারায় থাকলেও বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধের কারণে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়লে ডলারের চাহিদাও বাড়ে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) ব্যবস্থার আওতায় আমদানি বিল পরিশোধ বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি নিয়মিত ও পূর্বনির্ধারিত প্রক্রিয়া। প্রতি দুই মাস অন্তর এই বিল পরিশোধ করতে হয়, তাই এটি হঠাৎ কোনো ঘটনা নয়। তবে একসঙ্গে বড় অঙ্কের ডলার পরিশোধের কারণে সাময়িকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হয় এবং রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে দেখা যায়।

তিনি বলেন, রিজার্ভ কমে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই, কারণ আকুর অর্থ পরিশোধের পর আবার রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক সহায়তা আসার মাধ্যমে রিজার্ভ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়। তবে বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং ডলারের বাজারে অস্থিরতার কারণে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলারের চাহিদা এখনো বেশি। আকুর বিল পরিশোধের পর আন্তঃব্যাংক বাজারে কিছুটা চাপ বাড়তে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও ভোগ্যপণ্যের দাম ওঠানামা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণেও ডলারের বাজার সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

আকু মূলত এশিয়ার কয়েকটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে একটি আন্তঃআঞ্চলিক লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন প্রতি দুই মাস অন্তর নিষ্পত্তি করা হয়। বর্তমানে আকুর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভুটান ও মালদ্বীপ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত