র‌্যাব-পুলিশের পোশাক চাই কঠোর নিয়ন্ত্রণ

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৭:১৫ এএম

পুলিশ ও র‌্যাবের পোশাক চাইলে সহজেই কেনা যায়। শুধুই কি পোশাক? না। চাইলে বুট, হ্যান্ডকাফ ও বেল্টসহ অন্যান্য সামগ্রী পেতে পারে যে কেউ রাজধানীর পলওয়েল মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে; এমনকি থান-কাপড়ের দোকানেও। নিয়ম আনুযায়ী, এসব সামগ্রী নির্দিষ্ট বাহিনীর কর্মরত সদস্য ছাড়া অন্যদের পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, এগুলো সংগ্রহ করতে চাইলে কিছু দোকানে গেলেই পাওয়া যায়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলাসহ রাষ্ট্রীয় বিশেষ বাহিনীর ইউনিফর্ম ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করা এত সহজ হওয়ার কথা নয়। নিয়ম অনুযায়ী, যিনি এগুলো পেতে চান তার পরিচয়, পরিচিতিপত্র ও পরিচিতি নম্বর যাচাই হওয়ার কথা। ক্রেতার বা সংগ্রহকারীর এসব তথ্য বিক্রেতা বা যিনি সরবরাহ করেন, তার কাছে রেকর্ড হিসেবে সংরক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক দোকানিই এগুলোর কথা জানতেও চান না। আবার কেউ জানতে চাইলে সবাই যে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাও নয়। এ কারণে একজনের নাম দিয়ে অন্যজন, এমনকি আদৌ বাহিনীর সদস্য নন, এমন ব্যক্তিদের পুলিশ অথবা র‌্যাবের পোশাকসহ বিভিন্ন সামগ্রী নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বিষয়টি শুধু যে আইন বা নিয়ম না মানার, তা নয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাস, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িতরাও পুলিশ-র‌্যাবের পোশাক এবং অন্য সামগ্রী কিনছেন। এ সব সামগ্রী ব্যবহার করে দুই বাহিনীর সদস্য সেজে নানা অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন। আরেকটি দিক হলো, পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্য সেজে এসব অপরাধে জড়িতদের অনেকেই অতীতে কোনো বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তারা এসব সামগ্রী সংগ্রহের সময় পরিচয় যাচাই না করে বিক্রির বিষয়টি জানেন। সব মিলিয়ে এরা আসলে বড় ধরনের চক্র, প্রকাশ্যে পিস্তল, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ইত্যাদি নিয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করে। মানুষকে আটকে মারধর করে ছিনিয়ে নেয় সব কিছু। এরা এতটাই বেপরোয়া যে আসল পুলিশের সামনেও তারা অপকর্ম করে থাকেন। দেশ রূপান্তর ওই অপরাধচক্রের অপতৎপরতা নিয়ে রিপোর্ট করেছে। সেখানেই প্রকাশ পেয়েছে ওই চক্রে জড়িতদের আসল চেহারা। সম্প্রতি এ রকম একটি চক্রকে আটকের পর পুলিশ জেরা করে জেনেছে, নির্দিষ্ট বাহিনীর পোশাক, বুট, হ্যান্ডকাফ ও বেল্টসহ সরঞ্জাম বিক্রির সময় দোকানি আইডি দেখতে চায়নি। পুলিশ ও র‌্যাব যদি তদন্তে আসে, তখনই আসল অপকর্ম ধরা পড়ে। বাছ-বিচারবিহীন এই কেনাবেচা গোটা পুলিশ ও র‌্যাবকে দুর্নামের ভাগী করেছে। বিষয়টি নাগরিকরা খুবই উদ্বিগ্ন।

বাস্তবে যদি প্রয়োজনই না থাকত, কর্র্তৃপক্ষ কেন আইডি দেখা ও বিপি নম্বর চেক করে বিক্রির ব্যবস্থা করেছে? পলওয়েল মার্কেটের তিরিশটি টেইলারিং শপ টেন্ডারের মাধ্যমে এসব পোশাকসহ অন্যান্য উপকরণ বিক্রির লাইসেন্সের অধিকারী। তবে অধিকাংশই নিয়ম ও আইন মেনে তা করে না। পুলিশ বা র‌্যাবের লজিস্টিক শাখায় যোগাযোগ করেও নিশ্চিত হওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাও করা হয় না। কখনো চিহ্নিত হলে, কিংবা কেউ অভিযোগ করলে ওই মার্কেটের মালিক সমিতির নেতারা অভিযুক্ত দোকানিকে হুঁশিয়ার করে। এর বাইরে কোনো বিচার বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। র‌্যাব ও পুলিশের সামগ্রী কোনোভাবেই বাইরের খোলাবাজারে বিক্রি হতে পারে না। এটা জরুরিভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বাহিনীগুলোর লজিস্টিক শাখা কোন দোকানিকে কতটুকু কাপড় দিচ্ছেন, তা দিয়ে কার কার পোশাক তৈরি হলো, আর কোন পণ্য কার কাছে যাচ্ছে, তাও যাচাই করা জরুরি। পুলিশ নতুন পোশাক পেতে যাচ্ছে। ওই পোশাকও যাতে সন্ত্রাসী, জালিয়াত, ডাকাত ও অপরাধীচক্রের হাতে না পড়ে, সেটা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আইনের ফোকড় গলিয়ে এই যে অপরাধ পুলিশ-র‌্যাবকে দূষিত করে দিচ্ছে, আমরা এর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাশা করি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত