কৃমি সংক্রমণ ও অপুষ্ট শিশু

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০ এএম

পরিমিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে না পারার জন্য শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না এবং ঘন ঘন বিভিন্ন অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে শিশুদের পুষ্টিহীনতার অন্যতম কারণ কৃমিজনিত সংক্রমণ। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ পালন করা হয়ে থাকে। এ দিনে ৫-১২ বছর বয়সের সব শিশুকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে থাকে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা শিক্ষকদের সহায়তায় কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়।

কৃমি যেভাবে ক্ষতি করে

পুষ্টিহীনতা ও রক্তস্বল্পতা সৃষ্টি করা কৃমির প্রধান কাজ। এমনকি শিশুর জীবন বিপন্ন করার মতো পরিস্থিতিও সৃষ্টি করতে পারে। পেটের সমস্যা নিয়েই বেশি অস্থির হতে দেখা যায় বাবা-মায়েদের। শিশু খেতে চায় না, শিশুর বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়ার মূল কারণ কৃমির সমস্যা। এ ছাড়াও মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি সঙ্গে কৃমি দেখা যাওয়া চুলকানির কারণে শিশুর কান্নাকাটি এবং ঘুমাতে অসুবিধা, ব্যথাযুক্ত প্রস্রাব শিশুরা অভিযোগ করে থাকে। বিভিন্ন রকম এলার্জিজনিত সমস্যা যেমন চামড়া লাল হয়ে চুলকানি হওয়া, ঠা-া থেকে কাশি পরবর্তী সময় শ^াসকষ্ট হতে দেখা যায়। কিছু কৃমি শরীরের বিশেষ অংশ যেমন পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয়, অ্যাপেনডিক্সে অবস্থান নিয়ে পেটে তীব্র ব্যথা এমনকি জন্ডিসের কারণ হতে পারে। আবার দলে দলে এরা মরে গিয়ে খাদ্যনালিতে আটকে জীবন বিপন্ন হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

কৃমির কারণে শরীরে কিছু ভিটামিন যেমন ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন বি-১২ পোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে ভিটামিন ‘এ’ অভাবজনিত বিভিন্ন অসুবিধা প্রকটভাবে দেখা যায়।

খাওয়ার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।  খাওয়ার আগে শাকসবজি ও ফলমূল ভালো করে ধুয়ে নিন।  খাবার সর্বদাই ঢেকে রাখার চেষ্টা করতে হবে।  খোলা ও বাসি খাবার শিশুদের খাওয়াবেন না।  শিশুর হাত ও পায়ের নখ কেটে রাখতে হবে।  পায়খানায় যাওয়ার সময় অবশ্যই শিশুকে স্যান্ডেল পরানোর অভ্যাস করাতে হবে।  পায়খানা থেকে আসার পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।  যেখানে-সেখানে শিওর মলমূত্র ফেলে রাখা যাবে না।  চারদিক ঘেরা এবং পানি বের হয় না, এমন স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে।  গরুর মাংস ভালো করে সিদ্ধ করে শিশুকে খেতে দিন। গৃহপালিত কুকুর, বিড়ালকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে।  প্রত্যেক শিশুকে প্রতি ৪ মাস অন্তর নিয়মিত কৃমিনাশক বড়ি খাওয়াতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত