পাকা আম কতটা খাবেন জানেন তো?

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

বছরের দুই মাসই ভালো পাকা আম পাওয়া যায়। তাই অনেকেই বেশি আম খেয়ে ফেলেন। এরপর নানা সমস্যায় ভুগতে থাকেন। বৈশাখের শুরু থেকেই বাজারে পাকা আমের দেখা মিলছে। আর কয়েক দিনের মধ্যে ভালো মানের হিমসাগরও মিলবে। তখন লোভ সামলানো আরও কঠিন হয়ে যাবে। জ্যৈষ্ঠ আসতে না আসতেই পাকা ল্যাংড়া, গোলাপখাস, আম্রপালিতে ভরে উঠবে বাজার। ব্লাড সুগারের চিন্তা না করেই অনেকেই আম খাবেন। আমে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা এবং ম্যাঞ্জিফেরিন থাকে। এগুলো মেটাবলিজমের সময়ে শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। একে থার্মোজেনেসিস বলে। এর জেরে আম খাওয়ার পরে শরীর কিছু ভারী মনে হয়, গরম অনুভব হয়। তবে সীমিত পরিমাণে আম খেলে এ ধরনের সমস্যা হয় না।

বেশি আম খেলে

রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি : ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য একটা আমও ক্ষতিকর। আমের গ্লাইসেমিক সূচক বেশি। তাই আম বেশি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে।

ওজন বৃদ্ধি : আমে শর্করার পাশাপাশি ক্যালোরিও বেশি। একটি মাঝারি সাইজের আমে ১২০-১৫০ ক্যালোরি থাকে। তাই মাত্রাতিরিক্ত আম খেলে ওজন বাড়বেই।

পেটের সমস্যা : আমে ফাইবারের পরিমাণ বেশি। এই ফাইবারের মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে অনেক সময়ে পেট খারাপ, গ্যাস, ডায়ারিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাকে অনেকে আম-আমাশয় বলে।

ত্বকের সমস্যা : সীমিত পরিমাণে আম খেলে ত্বকেরই লাভ। কিন্তু বেশি খেলে শরীরে সুগার লেভেল বাড়ে এবং ত্বকে তার প্রভাব দেখা দেয়। ব্রণ, ফুসকুড়ি, র‌্যাশের মতো নানা সমস্যা দেখা দেয়।

একজন সুস্থ মানুষ দিনে একটি মাঝারি সাইজের আম খেতেই পারেন। খুব বেশি হলে দুটোও খাওয়া যায়। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে অর্ধেক আম খাওয়া উচিত। অনেক সময়ে একটা গোটা আম খেলেও সুগার লেভেল বেড়ে যায়। সকালে আম খাওয়া সবচেয়ে ভালো। এতে বিপাকের অনেকটা সময় পাওয়া যায়। শরীরে আম থাকা চিনি ভাঙতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। শরীরচর্চার পরে আম খেতে পারেন। এতে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। এ ছাড়া রাতে খাবার পরে আম না খাওয়াই ভালো। এতে বিশ্রামের সময়ে শরীরকে বেশি কসরত হয় হজমের জন্য। এতে শরীরে ক্যালোরি জমে এবং ওজন বাড়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত