ইরানের হামলায় জর্ডানে ২ মার্কিন সেনা নিহত, নিখোঁজ ১

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ এএম

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জর্ডানে দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন সেনাসদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার পর চারজন মার্কিন সেনাসদস্যকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনাসদস্যরা আবারও দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

এর আগে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, রাতভর দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ছোড়া ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ’ ঘোষণা করার পর টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিহত সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করার পর এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির ঘটনা।

তবে নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান কিংবা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করেনি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও অংশীদার বাহিনী ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া একজন সেনাসদস্য বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত তাদের পরিচয়সহ অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ওয়াশিংটন ও তেহরান গত জুন মাসে যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছালেও, চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাসের মধ্যেই তা কার্যত ভেঙে পড়ে।

শনিবার রাতে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের 'বারবার চুক্তি লঙ্ঘন' প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

গত এক সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ করেছে। জবাবে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সূত্র: বিবিসি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত