ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৯ এএম

মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক চুক্তি লঙ্ঘন প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সমঝোতার কোনো মূল্য নেই।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির একটি লিখিত বক্তব্য প্রচার করা হয়। এতে তিনি বলেন, গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেখিয়ে দিয়েছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অকার্যকর’।

বিবৃতিতে খামেনি বলেন, মহাশয়তানের (যুক্তরাষ্ট্র) ধারাবাহিক চুক্তি লঙ্ঘন আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের এখন আর কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। আধিপত্যবাদ, দমননীতি ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তিনি আরও বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ উসকে দিতে চায় এবং আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও অপমান ডেকে আনতে চায়, তবে তাদের জানা উচিত, ইরানের জনগণ ও প্রতিরোধ জোট তাদের এমন শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।

চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার পরিধি আরও বাড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সেতু, রেলপথ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

এর জবাবে ইরান কুয়েতের কয়েকটি বেসামরিক অবকাঠামোতে সফল হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুয়েত কর্তৃপক্ষ দেশটির নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধকে তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখেও ইরান আপসের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তবে পর্দার আড়ালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

খামেনি তার বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘প্রকৃত চেহারা’ প্রকাশ করেছে। এতে তাদের প্রতারণা, অযৌক্তিকতা, অবিশ্বস্ততা এবং বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি দেশবাসীর প্রতি নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকার অনুরোধ জানান।

এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

গত মাসে কাতার ও পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করা। তবে পরবর্তীতে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ওই সমঝোতাকে কার্যত অকার্যকর বলে ঘোষণা করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত