মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শনিবার (১৮ জুলাই) বিষাক্ত গ্যাস জাতীয় ট্যাবলেট খেয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
নিহতের নাম সৈকত আহমেদ (২৫)। সে টেঙ্গারচর ইউনিয়নের উত্তর শাহপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, তিন বছরের সংসার জীবনে তার ১৮ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহত সৈকতের বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিন বছর আগে একই ইউনিয়নের টেঙ্গারচর গ্রামের খোরশেদ আলমের মেয়ে খামিশা আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে আমার ছেলের বিয়ে হয়। তিন বছরের সংসারজীবনে তাদের আঠারো মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আমি পেশায় একজন জেলে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে আমি জাল দেখতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে ছেলের খবর পাই। সকাল দশটার দিকে তাকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেন। ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছালে সকাল সাড়ে দশটার দিকে সে মারা যায়। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো দাম্পত্য কলহ ছিল কিনা তা আমি জানি না।’
এদিকে নিহতের শাশুড়ি খাদিজা আক্তার রোজিনা বলেন, ‘আমার মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক একেবারে স্বাভাবিক ছিল। ঘটনার সময় মেয়ে আমাদের বাসায় ছিল। সে কী কারণে এই কাজ করল, তা আমাদের জানা নেই।’
বিষয়টা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা:শারমিন সুলতানা চৌধুরী বলেন, ছেলেটাকে যখন নিয়ে আসা হয়, তখন সে জানিয়েছিল, একটা ট্যাবলেট খেয়েছে কিন্তু কি ট্যাবলেট তা বুঝা যায় নাই তাই আননোন পয়জনিং (অজানা বিষক্রিয়া) দেখিয়ে ঢাকা পাঠিয়ে দেই।
বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া থানার পুলিশ এর সেকেন্ড অফিসার বিজন বাড়ৈ জানান,‘খবর পাওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে ও রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।