অস্ট্রেলিয়া সফরে অনিশ্চিত লিটন-নাহিদ

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

এক মাসের জিম্বাবুয়ে সফর। সব মিলিয়ে ৭টি ম্যাচ। অথচ এই ধকল নিতে পারছেন না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে পেসাররা। যদিও নাহিদ রানা একমাত্র টেস্টে ছিলেন না। এমনকি ৩ ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেও খেলেননি তিনি। তবে চলতি বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আর ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা খেলার মধ্যে আছেন। খেলতে নেমেই এবার চোটে পড়েছেন নাহিদ। গত শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করার মধ্যে বাঁ-পাশের পাঁজরের নিচের দিকের ব্যথা নিয়ে উঠে যান তিনি। এই চোটের কারণে আজ সিরিজের অলিখিত ফাইনাল তো বটেই, এমনকি আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে তার খেলা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে লিটন দাসকে নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে।

পুরনো চোট এখনো ভালো না হওয়ায় জিম্বাবুয়ে সফরের কোনো ম্যাচ না খেলেই ফিরে আসেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন। পরে একই তালিকায় যুক্ত হন মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ। এদের মধ্যে মুস্তাফিজ অনেক দিন ধরেই টেস্টের ভাবনায় নেই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানান, শরিফুল আগামীকাল থেকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তবে লিটনের হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের সুরাহা হচ্ছে না। যদিও সেরে উঠবেন ভেবে জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যান তিনি। তবে কোনো ম্যাচ না খেলেই ফিরে আসতে হয় তাকে।

জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য লিটনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘লিটনের জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে যে পরীক্ষা করা হয়, তখন কিছু ধরা পড়েনি। জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে এসে একটি পরীক্ষা করা হয়েছে, এটাতেও কিছু ধরা পড়ছে না। এতে ভালো চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। সেক্ষেত্রে লিটনের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে শঙ্কা আছে বলা যায়।’ দেবাশীষও লিটনকে দেশের বাইরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা শোনান, ‘আমরা ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরে একজন ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময় নিয়েছি। সেখান থেকে ফিরে এসে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কী হবে, এটার ওপর সবকিছু নির্ভর করবে।’

তবে নাহিদ এখনো দেশে না আসায় এই পেসারের বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি বিসিবির এই চিকিৎসক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুলাওয়েতে চোটের জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবশ্য ফলাফল জানা যায়নি। তবে পাঁজরের নিচের দিকের এমন চোট থেকে সেরে উঠতে অন্তত ৩ সপ্তাহ লাগে। এজন্য তারও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে না থাকার সম্ভাবনা আছে বলে মন্তব্য করেন নির্বাচক প্যানেলের একজন সদস্য, ‘এমনিতে সাইড স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে যতটা জানি, সেরে উঠতে অন্তত তিন সপ্তাহ লেগে যায়। যদিও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলতে পারবে কি না, এটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে অবশ্যই শঙ্কা আছে।’

অস্ট্রেলিয়ায় ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগেভাগে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ দল। যথেষ্ট প্রস্তুতি না থাকায় জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্টে নাস্তানাবুদ হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রথম ম্যাচ শুরুর ১২ দিন আগে রওনা দেবেন নাজমুল হোসেনরা। জিম্বাবুয়ে থেকে ঢাকায় আসার পর দুদিনের বিশ্রামে থাকবেন তানজিদ হাসান, তাওহীদ হৃদয়রা। এরপর লাল বলের ব্যক্তিগত অনুশীলনে নেমে পড়বেন তারা। টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটারদের বড় অংশ আগামী ১ আগস্ট ডারউইনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখানে ১৩ আগস্ট প্রথম টেস্টে নামার আগে আগামী ৬ তারিখে ৩ দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন সফরকারীরা।

এ নিয়ে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে আমাদের আগেভাগেই সেখানে গিয়ে অনুশীলন করার পরিকল্পনা করেছি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ৩ দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টেস্ট দলের সদস্যরা। এখানে কোনো দলগত অনুশীলন নেই। কেউ কেউ ব্যক্তিগত অনুশীলন করতে পারেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত