পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কামারকাঠি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের বালিবাড়ী এবং জলাবাড়ী ইউনিয়নের-পূর্ব কামারকাঠি গ্রামের মডেল স্কুল ভায়া ইদেলকাটি সড়কের উপর নির্মিত সেতুটি হঠাৎ ধসে পড়েছে।
এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে দুপুরে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি অটোগাড়ি সেতুটি পার হচ্ছিল। কিছু সময় পর হঠাৎ বিকট শব্দে সেতুর মাঝের অংশ ধসে খালের মধ্যে পড়ে যায়।
এলাকাবাসী জানায়, ওই সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে কয়েক হাজার মানুষ। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীদের এই পথ ব্যবহার করে স্ব স্ব গন্তব্যস্থলে যায়। সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে এখন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা ভাঙা সেতুর ওপর সুপারি গাছ ফেলে অস্থায়ীভাবে চলাচল করছে। এতে ছোট ছোট শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই সেতু প্রায় ১৫ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। গত কয়েক দিন আগে হঠাৎ সেটা ভেঙ্গে পড়ে। এই সেতু দিয়ে বালিবাড়ী, ইদেলকাঠি, জগন্নাথকাঠি ও শান্তিরহাট বাজারে গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। কাছাকাছি বিকল্প সড়ক না থাকায় সুপারি গাছ দিয়ে কোনমতে চলাচল করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পাঁচ গ্রামের একমাত্র ভরসা এই সেতু। এটা ভেঙ্গে পড়ায় চরম দুর্ভোগে এখানকার বাসিন্দারা। এই সেতু অতিদ্রুত নির্মান না হলে আসছে বর্ষা ও পানি মৌসুমে দুর্ভোগ হবে পাহাড়সম।
জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুমন সমদ্দার বলেন, সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় স্থানীয়রা খুবই দুর্ভোগে আছে। সেতু ভাঙ্গার কারনে এই রাস্তায় কোন যান চলাচল করতে পারে না। এতে এখানকার বাসিন্দারা অসুস্থ রোগী নিয়ে বেশি বিপদে পড়ছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে কথা বলছি। এখন পরিষদ যা করে।
জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এই সেতু ২০ বছর আগে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি চলাচল উপযোগী করা হবে।
