ওমানে একসঙ্গে ৪ ভাইয়ের মৃত্যু

রাঙ্গুনিয়ায় শোকের মাতম

আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ০৮:১২ এএম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার যে বাড়িতে কয়েক দিনের মধ্যেই বাজার কথা ছিল সানাইয়ের সুর, সেই বাড়িতে এখন চলছে গগনবিদারী কান্না আর আহাজারি। নতুন বউকে বরণের প্রস্তুতি ফেলে স্বজনরা এখন চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। সর্বত্র শোকের মাতম চললেও এখনো এই মর্মান্তিক খবর জানানো হয়নি প্রয়াতদের গর্ভধারিণীকে। একসঙ্গে চার সন্তানের মৃত্যুর শোক সইতে পারবেন তো এই মা?

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজারপাড়া এলাকার প্রয়াত আবদুল মজিদের পাঁচ সন্তানের সবাই প্রবাসী। এর মধ্যে ওমান প্রবাসী চার সন্তান একসঙ্গে মারা গেছেন। গত বুধবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দেশে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ওমানে বিয়ের বাজার করে বাসায় ফেরার সময় গাড়িতে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত চার সহোদর হলেন মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহীদ। দেশে তাদের মা ও বড় দুই ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানরা রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে বড় ভাই বিবাহিত ছিলেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অন্য এক ভাইও সম্প্রতি বিয়ে করে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ভাইদের মধ্যে দুজনের আজ শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। তাই চার ভাই একটি গাড়ি নিয়ে একসঙ্গে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন।

প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার পর ওই চার ভাইয়ের একজন বারকা এলাকায় থাকা তাদের এক স্বজনকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে জানান, তারা খুবই অসুস্থ। গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। যেখানে অবস্থান করছেন, সেই এলাকার লোকেশনও পাঠান। এর মধ্যেই রাতে মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করে রাখা গাড়িটির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানান দুই প্রবাসী বাংলাদেশি। এরপর পুলিশ এসে দরজা খুলে চারজনের লাশ উদ্ধার করে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ির এসি বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে।

বুধবার রাতে তাদের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

নিহতদের মরদেহ বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান স্বজন ও স্থানীয়রা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত