বৃষ্টি শেষের রংধনু

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

একদিন আমি আমার রুমে বসে আছি। হঠাৎ সাদা আকাশ কালো হয়ে গেল। আকাশ ঘন মেঘে ছেয়ে যায়। চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। থেমে থেমে বাতাস বইতে শুরু করে। মেঘ থেকে অনবরত বিজলী চমকাতে থাকে। বিজলীগুলো দেখতে গাছের শেকড়ের মতো।

বাতাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিজলীগুলো দ্রুতগতিতে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে। ঝড়ো বাতাসে বৃষ্টি বাঁকা হয়ে পড়তে থাকে। শুকনো পাতা, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট এদিক-ওদিক উড়তে থাকে। সঙ্গে ধুলাবালিও উড়ে যায়। কুকুরগুলো একসঙ্গে ডাকাডাকি শুরু করে। যা এক আজব শব্দে রূপ নেয়।

সব মিলিয়ে মনে হয় কিছু একটার আয়োজন চলছে। হঠাৎ টুপটাপ ফোঁটায় বৃষ্টি নেমে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি আকার পরিবর্তন করে ঝরনার মতো ঝরতে থাকে। জানালা দিয়ে গাছের ফাঁকে ফাঁকে টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার দৃশ্য দেখি।

বৃষ্টির সঙ্গে একটু পরপর বিজলী চমকাতে থাকে। বিজলী একবার এখানে, একবার ওখানে দেখা দেয়। প্রথমে বিজলী চমকায় তার পরক্ষণেই গুড়ুম গুড়ুম বিকট আওয়াজ হয়। বিজলী চমকানোর একটু পর বজ্রের আওয়াজ কেন হয়, ভাইয়ার কাছ থেকে তা জানতে পারি। আলোর গতি শব্দের গতির চেয়ে বেশি। তাই আগে বিজলীর আলো দেখি তারপর শব্দ শুনতে পাই।

লোকজন ছাতা মেলে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে। কয়েকটি অটোরিকশা, সিএনজি, ট্রাক, গাড়ি বৃষ্টি মাড়িয়ে সাঁই করে ছুটে যায়। কেউ কেউ রেইনকোট পরে মোটরসাইকেল নিয়ে হুড়মুড় করে চলে যাচ্ছে। উত্তর দিক থেকে শীতল বাতাস আরও জোরসে বইতে থাকে। বাতাসের ঝাপটা আমার কাছে ভালো লাগে। জানালা দিয়ে হাত বাড়াতেই বৃষ্টির ফোঁটায় হাত ভিজে যায়।

বৃষ্টি থেমে  যায়। আকাশ থেকে কালো মেঘ সরে সাদা হয়ে যায়। বৃষ্টি শেষে পাখিরা আনন্দে গান গায়। ছোট ছোট পাখিরা দল বেঁধে জমে থাকা পানিতে ঝুপঝাপ গোসল করে। গাছের পাতাগুলো বাতাসে নড়তে থাকে। যেন আনন্দে নাচ করছে।

ভাইয়ার সঙ্গে ছাদে গেলাম। ছাদে গিয়ে আকাশে তাকিয়ে দেখি অবাক কা-! আকাশের এক প্রান্তে সাত রঙের অর্ধ বৃত্ত। এমন দৃশ্য রঙতুলিতে আমি বহুবার এঁকেছি। ও আচ্ছা একেই তো রংধনু বলে! এবার বাস্তবে দেখলাম। দৃশ্যটি ছিল খুবই মনোরম। দিনটির কথা কোনো দিন ভোলার নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত