ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের কাগজে কলমে সবচে শক্তিধর দল আবাহনী আবার হেরেছে। প্রথম রাউন্ডে নবাগত লেপার্ডের কাছে হেরেছিল তারা। আজ বৃষ্টির জন্য ২৭ ওভারে কমিয়ে আনা ম্যাচে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সেঞ্চুরি সত্বেও ৮ উইকেটে হেরে গেছে সিটি ক্লাবের কাছে।
ক্রিকেটার্স অ্যাকাডেমি মাঠে দুপুরে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই কিছুটা চাপে পড়ে আবাহনী। ওপেনার জিশান আলম ৪৪ বলে ৫৪ রান করে ভালো শুরু দিলেও সৌম্য সরকার (১৪) ও মেহেরাব হাসান দ্রুত বিদায় নেন।
তবে মিডল অর্ডারে একাই লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মাত্র ৫০ বলে ১০১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তার এই ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ১০টি বিশাল ছক্কায়। নির্ধারিত ২৭ ওভারে ৫ উইকেটে ২০৯ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায় আবাহনী। সিটি ক্লাবের পক্ষে নিহাদ উজ জামান ৩৪ রানে ৩টি উইকেট নেন।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন সিটি ক্লাবের অধিনায়ক ও উইকেটকিপার মেহেদী মারুফ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারালেও এক প্রান্ত ধরে রেখে ৫৬ বলে ৭১ রানের ইনিংস দিয়ে দলকে টেনে নেন। ১২৪ রানে তার বিদায়ের পর উইকেটকিপার ব্যাটার তাহজিবুল, এনামুল হক এনাম ও পরে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া আব্দুল গাফফার সাকলায়েনকে নিয়ে ৮ বল হাতে রেখেই ২ উইকেটের জয় এনে দেন। সাকলায়েন ১১ বলে তিন ছক্কায় করেন ২৫। এনাম ৭ বলে ২২ এবং তাহজিবুল ২৮ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন।
হৃদয়ে উড়ছে মোহামেডান
প্রথম ম্যাচে নবাগত সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জিতেছে মোহামেডান। চার স্পিনারের ( নাইম আহমেদ ২/২৮, তাইবুর ২/২২, তানভির ১/৪০, আফিফ ১/১১) বোলিংয়ে কম বাজেটের দল ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২০৯/১০-এ আটকে ফেলে ১১ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতেছে মোহামেডান।
২১০ রানের চ্যালেঞ্জে শুরুতে শঙ্কার আলামত ছিল মোহামেডানের ইনিংসে। ৫০ রান উঠতেই ৩ ব্যাটার (নাঈম শেখ, বিজয়, পারভেজ ইমন) ফিরে গেলেও মোহামেডানকে দুর্ভাবনায় পড়তে দেননি হৃদয়-তাইবুর পারভেজ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাইবুর রহমানকে নিয়ে ১৪৬ বলে ১২৭ রানের জুটি মোহামেডানের বড় জয়ের পথ সুগম করেছেন।
জাতীয় দলের ফর্মের ধারাবাহিকতা নিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগেও স্বরূপে হাজির আসরের সবচেয়ে দামি এই ক্রিকেটার। অর্ধ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়া তাওহীদ হৃদয় লিগের প্রথম ম্যাচে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ৩৪-এ থেমে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেছেন বড় ইনিংস। কার্টেল ওভারের ম্যাচে যেভাবে হিসেব করে ব্যাটিং করেছেন, তাতে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল তাঁর। তবে ৩৫তম ওভারে ব্রাদার্স ইউনিয়নের অফ স্পিনার সোহাগ গাজীকে লফটেড শট নিতে যেয়ে লং অনে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন সেঞ্চুরির ১৮ রান আগে (৮৫ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৮২ রান)।তাঁর ব্যাটিং পার্টনার তাইবুর রহমান ফিনিশার হতে পারেননি। ব্রাদার্স ইউনিয়ন পেসার ইয়াসিন আরাফাত মিশুর বলে বোল্ড হয়ে থেমেছেন (১০০ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় ৭৪)।
এই ম্যাচে অলরাউন্ড পারফরমেন্সে লড়াইটা ভালই জমিয়ে দিয়েছেন দুদলের দুই অফ স্পিন অলরাউন্ডার সোহাগ গাজী (৫০ রান এবং ২/৪৩)-তাইবুর পারভেজ (২/২২ ও ৭৪)। তবে ম্যাচ উইনিং পারফরমেন্সের কারণে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন তাইবুর পারভেজ।
জয়ের ছন্দ ধরে রাখতে পারল না ঢাকা লেপার্ড
আগের ম্যাচে শক্তিশালী আবাহনীকে হারিয়ে চমকে দিলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে এসে পথ হারাল ঢাকা লেপার্ড। অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ২১৫ রানেই থমকে যায় তারা।
বিকেএসপিতে প্রথমে ব্যাট করা অগ্রণী ব্যাংকের ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস ও জাহিদ জাভেদ। ইমরুল ৬০ বলে ৬৪ রান করেন এবং জাহিদ খেলেন ৬৬ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস। লেপার্ডের বোলারদের মধ্যে আলাউদ্দীন বাবু ৫৭ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৫ উইকেট। রান তাড়ায় নেমে সৈকত আলী (৫৬) ছাড়া লেপার্ডের আর কোনো ব্যাটার বড় স্কোর করতে পারেননি। অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে রবিউল হক ও আরিফ আহমেদ ৩টি করে উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
রূপগঞ্জ টাইগার্সকে উড়িয়ে দিল গাজী গ্রুপ
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। টসে হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রানের পাহাড় গড়ে তারা। গাজীর এই বিশাল সংগ্রহের নেপথ্যে ছিলেন দুই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ও সাব্বির হোসেন। মুনিম মাত্র ৫৮ বলে ১১টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে বিধ্বংসী ৯২ রান করেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে সাব্বির খেলেন ৭২ রানের কার্যকরী ইনিংস।
২৮৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে রূপগঞ্জের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ১০৩ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। বল হাতে আবারও উজ্জ্বল ছিলেন আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় মোহাম্মদ রুবেল। এই রহস্য স্পিনার ৯.১ ওভারে ৩৫ রান খরচায় তুলে নেন ৪টি উইকেট। ফলে ৯২ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গাজী গ্রুপ।
রাতুলের সেঞ্চুরির পর ৩ উইকেট
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের অভিষেক রাঙিয়েছিলেন ৫ উইকেট আর ৪০ রানের ইনিংসে। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে ফেরা সামিউন বাশির রাতুল এবার দেখা পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে আজ লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ব্যাট-বলে তাণ্ডব চালিয়েছেন এই তরুণ তুর্কি। ক্যারিয়ারের মাত্র ষষ্ঠ ম্যাচেই ৭০ বলে ১১৬ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কার মার।
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ যখন ১৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে ছিল, তখনই ক্রিজে আসেন সামিউন। মাত্র ৩৭ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ৬৪তম বলে পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে। তার এই টর্নেডো ইনিংসে ভর করেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৫৮ রানের পাহাড় গড়ে রূপগঞ্জ।
৩৫৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪১.৩ ওভারে ২৭৫ রানেই থমকে যায় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। দলের হয়ে জিয়াউর রহমান ৩৮ বলে সর্বোচ্চ ৬১ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ৩টি উইকেট শিকার করে দলের জয় নিশ্চিত করেন সেঞ্চুরিয়ার রাতুল
তিনটি নার্ভাস নাইটিজের পর ডিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি রাতুলের