চন্দনাইশে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত খামারিরা

আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই ঈদ ঘিরে বেশি লাভের আশায় দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চন্দনাইশের খামারিরা। পশু বিক্রির সময় ঘনিয়ে আসায় ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল, ছোলা ও ভুসি খাইয়ে গরুর যত্ন নিচ্ছেন তারা।

দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে গত বছর বেশ দাম পেয়েছেন খামারিরা। এবারও তারা ভালো দাম পাবার আশা করছেন। কিন্তু তা নির্ভর করবে ভারতীয় ও মায়ানমারের গরু না ঢোকার ওপর। একইসঙ্গে গো-খাদ্যের দাম দিন দিন বেড়ে চলায় শঙ্কিত তারা। ইতোমধ্যে হাটগুলোয় বাড়ছে পশুর সংখ্যা। অস্থায়ী হাট বসাতে চলছে প্রচার-প্রচারণা। গরু চুরি বন্ধে সতর্ক উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, চন্দনাইশে ছোট-বড় মাঝারি মিলিয়ে দুধের খামার আছে ১১৮টি। আর হৃষ্ট পুষ্টকরণ খামার আছে ১৮০টি। উপজেলায় এসব খামারে এ বছর ১৯ হাজার ৭৪৬টি ষাঁড়, ৩ হাজার ২৮৬টি বলদ, ১ হাজার ৪৬৯টি গাভীসহ মোট ২৪ হাজার ৫০১টি গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। এছাড়া ২ হাজার ৩টি মহিষ, ১০হাজার ৯২০টি ছাগল ও ১ হাজার ১৩৫টি ভেড়ার চাহিদা রয়েছে। উপজেলায় প্রয়োজন ৩৩ হাজার ৭৫০টি পশু।

উপজেলার বিভিন্ন খামার ও গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির পশুকে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মোটাতাজা করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারিরা। তাদের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের কৃষকরাও এখন পুরোদমে ব্যস্ত। গরুকে খড়, তাজা ঘাস, খৈল ও ভুসি ছাড়াও খাওয়ানো হচ্ছে হরেক পুষ্টিকর খাবার। ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো হচ্ছে গরুর স্বাস্থ্য।

কয়েকজন খামারি ও চাষি জানান, সাধারণত গরুকে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, লালি-গুঁড়, ভাতের মাড়, তাজা ঘাস, খৈল, গম, ছোলা, খেসারি, মাসকলাই, মটরের ভুসিসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এ নিয়মে গরু মোটাতাজা করা হলে ক্রেতা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এ ধরনের গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা গরুর চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়া যায়। 

খামারের শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে গরু মোটাতাজা করতে তারা নির্ঘুম রাত পার করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো  পাইকারের দেখা মেলেনি। খামার মালিক যদি গরুর ন্যায্য দাম না পায়, তাহলে তাদের শ্রম ও মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা হবে। খামারে রোজগারের টাকা দিয়েই তাদের সংসার চলে। 

চন্দনাইশ কাঞ্চননগর এলাকার বিসমিল্লাহি এগ্রোর খামারি ও মালিক মো. এনাম উদ্দিন বলেন, ধানের কুড়া, কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি, ভুট্টা, ডাল, সরিষার খৈল, আখের গুড় ও লবণসহ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। খামারে ৩০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশী গরুর চাহিদা থাকায়  প্রতিবছর খামার থেকেই ক্রেতারা গরু কিনে নিয়ে যায়। 

তিনি বলেন, এবারের ঈদে ভারত থেকে পশু আমদানি না হলে দেশী খামারিরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি আগামীতে খামার করতে উৎসাহিত হবেন অনেকে। স্থানীয় হাটেই গরুগুলো বিক্রি করবো।

উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকার আল্লাহর দান ও খাঁজার শান ফার্মের মালিক ও খামারি মো. আকতার হোসেন ও লিপি আকতার দম্পতি বলেন, খামারে ২০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গরু সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে কাঁচা ঘাস, খড়, তিলের খৈল, ছোলার খৈল, মটরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে।  

উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, ঈদের প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই খামারিরা পশু মোটাতাজা করতে শুরু করেন। উপজেলার প্রতিটি খামারে সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করার জন্য খামারিদের উৎসাহিত করা হয়েছে। খামারিদের সচেতন করতে নিয়মিত সভা-সেমিনার হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলায় এবার প্রায় ৪০ হাজারের ওপরে কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। হাটগুলোয় সুস্থ-সবল পশু বিক্রির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ভেটেরিনারি টিম কাজ করবে। ওষুধের দোকানে যাতে ক্ষতিকর কোনো ওষুধ বিক্রি না হয় সেজন্যও মনিটরিং করা হচ্ছে।

চন্দনাইশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, এ উপজেলায় কুরবানির চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলে প্রায় ৪০ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে যা চাহিদার চেয়ে বেশি। খামারিদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। পশুর বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে টিকাদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।"

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত