সমাবেশে জামায়াত আমির

উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার জন্য চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দায়ী

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০২:২০ এএম

দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার জন্য চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজশাহীতে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ১১ দলের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন।

শফিকুর রহমান তার বক্তব্যের প্রায় সবটা জুড়েই বিএনপির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘যে পথ ধরে স্বৈরাচার হেঁটেছে, একই পথ দিয়ে বিএনপি হাঁটছে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে সরকার ব্যর্থ। বিএনপি জাতীয়তাবাদী দল থেকে চাঁদাবাজ দলে পরিণত হয়েছে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা জাতিকে ধোঁকা দিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে তা স্বীকার করে নিয়েছেন। জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ কোনো দিন রেহাই পায়নি, আপনারাও রেহাই পাবেন না। তাই সৎপথে ফিরে আসুন। জাতির সঙ্গে গাদ্দারি-বেঈমানি করবেন না।

শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায়ও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হবে। বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি সঠিক, সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধ আমরা যারা বিরোধী দলে ছিলাম দফায় দফায় আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে যায়নি। যেদিন এই তরুণ-তরুণীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসেছিল, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। সবাই রাস্তায় নেমে এসেছিল। আন্দোলন সেদিনই সফলতার মুখ দেখেছিল। এখন সরকারি দলের বন্ধুরা তাদের কাউকে বলে শিশু পার্টি, আর কাউকে বলে গুপ্ত। লজ্জা। যাদের কারণে আপনাদের এই গদি, তাদের আপনারা উপহাস করছেন। এর পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য তৈরি হোন। এই জাতি ঠিকই পাওনা বুঝিয়ে দেবে আপনাদের।’ সংসদে কথা বলতে দেওয়া না হলে রাজপথে নামবেন বলে জানান জামায়াত আমির।

ভারতে মুসলমানদের নির্যাতন করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীকে সম্মান করি। আমরা চাই, আপনারা শান্তিতে থাকুন। আমরা চাই আপনাদের দেশের ভেতরে মানবিক পরিবেশ তৈরি হোক। আমরা চাই না ধর্মের ভিত্তিতে সেখানে বিভাজন এবং অশান্তি হোক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেখানে শুধু মুসলিম নামের মানুষকে নাজেহাল করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের দিকে লাল চোখ দেখানো হচ্ছে। বন্ধু, এটা তিতুমীরের বাংলাদেশ। হাজি শরীয়তউল্লাহর বাংলাদেশ। শাহমখদুমের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশের দিকে চোখ রাঙাবেন না। হুমকি-ধমকি দেবেন না।’

পদ্মা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জানান জামায়াত আমির। তিনি বর্তমান সরকারকে বলেন, পদ্মা ব্যারাজের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন,  ‘এই ঘোষণা যেন লোকদেখানো না হয়। এই ঘোষণা যেন বাস্তবে রূপ নেয়।’

জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, এনসিপি নেতা সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত