২০০২-এর রূপকথা ফিরিয়ে আনার মিশনে সেনেগাল

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

বিশ্বকাপের আঙিনায় সেনেগাল মানেই গতি, শারীরিক শক্তি আর গতিশীল ফুটবলের এক অনবদ্য প্রদর্শনী। আফ্রিকান ফুটবলে ‘লায়ন্স অব তেরঙ্গা’ খ্যাত দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে। সেবার প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রেখেই তারা পুরো ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দেয় সেনেগালিজরা। এরপর সুইডেনকে বিদায় করে কোয়ার্টার-ফাইনালে (শেষ আট) পৌঁছে আফ্রিকার ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায় তারা।

তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেনেগালের যেমন রূপকথা রয়েছে, তেমনি রয়েছে চরম আক্ষেপও। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জাপান ও পোল্যান্ডের সমান পয়েন্ট ও গোল হওয়া সত্ত্বেও, ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কেবল ‘ফেয়ার প্লে’ (বেশি হলুদ কার্ড দেখা) নিয়মে কপাল পোড়ে তাদের এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদায় নিতে হয়। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দলের মূল তারকা সাদিও মানে ইনজুরির কারণে ছিটকে গেলেও দুর্দান্ত খেলে তারা রাউন্ড অব ১৬-তে পৌঁছায়, তবে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে থামে তাদের যাত্রা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সিএএফ বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে অপরাজিত থেকে দাপটের সঙ্গে মূল পর্বের টিকিট কেটেছে সেনেগাল। ২০০২ সালের সেই কোয়ার্টার-ফাইনালের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এবার উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রাখছে দলটি।

সেনেগালের জন্য এবারের বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট বেশ ভিন্ন এবং নতুন সম্ভাবনার। দীর্ঘদিনের সফল কোচ আলিও সিসের বিদায়ের পর, দলের হাল ধরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন কোচ পাপে থিয়াও। মজার ব্যাপার হলো, থিয়াও নিজেই সেনেগালের ২০০২ সালের সেই ঐতিহাসিক সোনালি প্রজন্মের সদস্য ছিলেন। ফলে নিজের শিষ্যদের মধ্যে সেই পুরনো ঐতিহাসিক তেজ ও আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন তিনি। বাছাইপর্বে মৌরিতানিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে আসা এই সেনেগাল দলটিকে বলা হচ্ছে আফ্রিকার অন্যতম গোছানো ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড।

পাপে থিয়ার দর্শন

৪৫ বছর বয়সী পাপে থিয়াও খেলোয়াড় হিসেবে ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের রূপকথার অংশ ছিলেন, বিশেষ করে ডেনমার্কের বিপক্ষে শেষ ১৬-র ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে খেলেছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থিয়াও দলে এনেছেন গতি ও কৌশলের ভারসাম্য। সাধারণত রক্ষণভাগ মজবুত রেখে প্রতিআক্রমণে ওঠার ফুটবল দর্শনে বিশ্বাসী থিয়াও। তবে আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের সাম্প্রতিক রানার্স-আপ তকমা আর দলের বর্তমান শক্তি বিবেচনায় এবার তিনি কিছুটা আক্রমণাত্মক কৌশলের দিকেও ঝুঁকছেন। থিয়াওয়ের মূল লক্ষ্য, দলের পুরনো ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে এনে মাঠে নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দেওয়া।

মূল ভরসা : সাদিও মানে ও ইসমাইলা সার

সেনেগালের আক্রমণভাগের মূল নিউক্লিয়াস এবং ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা সাদিও মানে। বর্তমানে আল নাসরে খেলা এই তারকা ফুটবলার তার অভিজ্ঞতা, ক্ষিপ্র গতি ও গোল করার অসামান্য দক্ষতা দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে চুরমার করে দিতে পারেন। বাছাইপর্বেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫টি গোল এসেছে তার পা থেকেই। আক্রমণভাগে মানের প্রধান সহযোগী ও দলের অন্যতম মূল ভরসা ক্রিস্টাল প্যালেসের উইঙ্গার ইসমাইলা সার। তার ডান প্রান্ত ধরে বিদ্যুৎগতির দৌড় এবং বক্সে নিখুঁত ক্রস করার ক্ষমতা সেনেগালের আক্রমণের ধার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া লাৎসিওর ফরোয়ার্ড বুলায়ে দিয়াও দলের অন্যতম ট্রাম্পকার্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত