রূপসী গোলাপ হবে বৈচিত্র্যময়

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ১২:২২ এএম

ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, যুক্তরাজ্যের ৪০ জন গবেষকের একটি দল গোলাপের জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন। তাদের গবেষণা প্র্রবন্ধটি প্রকাশ করেছে, বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার জেনেটিকস। বিজ্ঞানীদের দলটি তাদের আট বছরের চেষ্টায় গোলাপের মোট ৩৬ হাজার ৩৭৭টি জিন চিহ্নিত করেছেন। যার মধ্যে এর সুবাস আর রঙের জন্য দায়ী, জিনগুলোও রয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন, জিন-নকশা জানা সম্ভব হওয়ায় আগামীতে সুবাস আর রঙে গোলাপ হয়তো হয়ে উঠবে আরও বৈচিত্র্যময়। বিবিসি বলছে, গোলাপের জিন-নকশা অবাক করেছে বিজ্ঞানীদের। তারা বলছেন, জিনোম সিকোয়েন্সের দিক দিয়ে গোলাপ স্ট্রবেরির খুব কাছের। গবেষক দলের প্রধান ফ্রান্সের ইএনএস ডি লিয়ঁর বিজ্ঞানী মোহাম্মদ বেনদামান বিবিসিকে বলেন, গোলাপের ইতিহাসের আদ্যোপান্ত নিয়ে রীতিমতো একটা গ্রন্থ যেন তারা আবিষ্কার করে ফেলেছেন। কয়েক হাজার বছর আগে সম্ভবত চীনারাই প্রথম বাগানে গোলাপ চাষের সূচনা করেছিল। রোমান যুগে সুগন্ধি আর রঙিন কাগজ তৈরির জন্য, মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপকহারে গোলাপ চাষ হতো। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ড. বেনদামান আর তার সহকর্মীরা তাদের গবেষণা শুরু করেছিলেন জড়ংধ প্রযরহবহংরং প্রজাতির গোলাপ নিয়ে, ইউরোপে যার নাম ‘ওল্ড ব্লাশ’। চীন থেকে ওই জাতের গোলাপ ইউরোপে গিয়েছিল অষ্টাদশ শতকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন এমন গোলাপের জাত তৈরি করা সম্ভব হবে, যা ফুলদানিতে তাজা থাকবে আরও বেশিদিন। সেইসঙ্গে থাকবে পোকামাকড়মুক্ত। এ গবেষণা রোজেসি পরিবারের অন্যান্য ফল যেমন আপেল, নাসপাতি, স্ট্রবেরির জিন-বিন্যাসের ওপরও আলো ফেলেছে। দেখা যাক, কবে নাগাদ এমন ফুল বিপ্লব আমাদের হাতের নাগালে পৌঁছায়?

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত