সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে আরেকটি ২-০ ব্যবধানে ক্লিন সুইপের সুবাস পাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জয়ের জন্য রেকর্ড ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। ম্যাচ জিততে সফরকারীদের এখনো করতে হবে ১২১ রান, আর বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট।
চতুর্থ দিনে পাকিস্তানকে আরও দ্রুত চেপে ধরা যেত, কিন্তু বাংলাদেশের জয়ের পথে প্রধান ‘গলার কাঁটা’ হয়ে ক্রিজে টিকে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। তিনি ৭৫ রানে অপরাজিত থেকে পঞ্চম দিনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে রেখেছেন।
টেস্টের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো রেকর্ড নেই। ফলে তৃতীয় দিন শেষেই মনে হয়েছিল পাকিস্তানের পরাজয় কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে চতুর্থ দিনে পাটা হয়ে ওঠা উইকেট এবং পাকিস্তানি ব্যাটারদের দুটি বড় জুটি ম্যাচটিকে পঞ্চম দিনে টেনে নিয়ে গেছে। সকালের সেশনে আব্দুল্লাহ ফজলকে নাহিদ রানা এবং আজান আওয়াইসকে মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ফিরিয়ে দিলে ৪১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। দুজন মিলে তৃতীয় উইকেটে ৯২ রানের মারকুটে জুটি গড়েন। বাবর চলতি সিরিজে নিজের প্রথম ফিফটি তুলে নেওয়ার পরপরই দৃশ্যপটে আসেন তাইজুল ইসলাম এবং উইকেটরক্ষক লিটন দাস।
তাইজুলের লেগ স্টাম্পের ওপর একটি বল বাবর হালকা ফ্লিক করতে গেলে নিচু হয়ে আসা বলটি অবিশ্বাস্য দক্ষতায় গ্লাভসবন্দি করেন লিটন। ৪৭ রানে আউট হয়ে বাবর কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্রিজে। এরপর সৌদ শাকিলকে (১০) নাহিদ রানা এবং থিতু হওয়া শান মাসুদকে (৭১) তাইজুল ফিরিয়ে দিলে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
৫ উইকেটে ১৭০ রান তোলার পর পাকিস্তান যখন দ্রুত অলআউট হওয়ার শঙ্কায়, তখনই ষষ্ঠ উইকেটে দলের হাল ধরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আগা। এই জুটি বাংলাদেশের বোলারদের ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নেয়। স্পিন ও পেস দুই আক্রমণই দারুণভাবে সামলে তারা ১৩৪ রানের এক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
শেষ সেশনে নতুন বল নেওয়ার পরও যখন রান আসছিল, তখন বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তার রেখা দেখা দেয়। মাঠের ভেতর সাইটস্ক্রিন ও সময় নষ্ট করা নিয়ে লিটন দাসের সঙ্গে রিজওয়ানের কিছুটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। ম্যাচ যখন পাকিস্তানের দিকে হেলে পড়ার ফিসফাস তৈরি করছিল, ঠিক তখনই জাদুকরী স্পেলে নাটকীয়ভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঠিক আধা ঘণ্টা আগে দারুণ এক স্ট্রেট ডেলিভারিতে ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করেন তাইজুল। ১০ বলের মধ্যে নতুন ব্যাটার হাসান আলিকেও দ্রুত সাজঘরে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার। ৩০৪ রানে ৫ম উইকেট হারানো পাকিস্তান মুহূর্তের মধ্যে ৩০৪ রানেই ৭ উইকেটে পরিণত হয়। আর এই জোড়া আঘাতেই পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
যদিও পাকিস্তান এখনো জয়ের আশা করছে, যেমনটা বলেছেন ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিক, ‘অবশ্যই, (জেতার) আশা আছে। আপনি যদি আমাদের ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্স দেখেন, আমরা সত্যিই আশাবাদী। ১২০ (১২১) রানের মতো বাকি আছে। রিজওয়ান যেভাবে ব্যাটিং করছে এবং সাজিদ যেভাবে প্রথম ইনিংসে খেলেছে তাতে আমরা আশাবাদী।’
কিন্তু বাংলাদেশ ভাবছে, দ্রুতই বাকি তিন উইকেট সকালে নিয়ে নেবে বোলাররা। ‘আমরা ওদের অলআউট করে দেব। আশা করি এটাই হবে’, বলেছেন বোলিং কোচ শন টেইট।
