বাংলাদেশি আবেদনে সাড়া কম

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২২ এএম

ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাংলাদেশ এখনো শীর্ষ আবেদনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো বাংলাদেশি আবেদনকারীদের বড় অংশই আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান একদিকে যেমন আশ্রয় প্রক্রিয়ার কঠোর বাস্তবতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে মানব পাচারকারী চক্রের মিথ্যা আশ্বাসে ইউরোপে আসার বিষয়েও মানুষকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তর অফপ্রার ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশটিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে। আগের বছরের তুলনায় আবেদন কমেছে ৫.৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে প্রথমবারের আশ্রয় আবেদন ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৩টি, যা আগের বছরের চেয়ে ১৪.৪ শতাংশ কম। অন্যদিকে পুনর্বিবেচনার আবেদন বেড়ে হয়েছে ৩৩ হাজার ৭১৩টি, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ অনেক আবেদনকারী প্রথমবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর পুনরায় আবেদন করেছেন।

ইউক্রেন শীর্ষে, বাংলাদেশ নবম : ২০২৫ সালে প্রথমবারের আশ্রয় আবেদনকারী দেশের তালিকায় ১১ হাজার ৯৮৯টি আবেদন নিয়ে ইউক্রেন প্রথম স্থানে উঠে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এখনো দেশটির নাগরিকদের ইউরোপমুখী করে রাখছে। এরপর রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (১১ হাজার ৩৩৮), আফগানিস্তান (১০ হাজার ৮২২), গিনি, আইভরি কোস্ট, হাইতি, তুরস্ক ও সুদান। বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে। বাংলাদেশ থেকে ৩ হাজার ৮১৬ জন প্রথমবার আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৬.৭ শতাংশ কম। আবেদনকারীদের মধ্যে ১৮.৬ শতাংশ নারী এবং ৭.৩ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক।

সুরক্ষা স্বীকৃতির হার এখনো কম : অফপ্রার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম আবেদন, পুনর্বিবেচনা ও পুনরায় খোলা আবেদন মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে মোট ৪ হাজার ৫৩৪টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন শরণার্থী মর্যাদা বা সাবসিডিয়ারি প্রটেকশন পেয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি আবেদনের বিষয়ে প্রত্যাখ্যানমূলক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যা বিভিন্ন সময়ে জমা পড়া মামলার নিষ্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত করে।

অফপ্রা এবং ফরাসি জাতীয় আশ্রয় আদালত সিএনডিএর সম্মিলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের মোট সুরক্ষা স্বীকৃতির হার মাত্র ৭.৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আবেদনকারীর মধ্যে গড়ে মাত্র ৭ জন আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাচ্ছেন।

মানব পাচারকারীদের প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান : অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, মানব পাচারকারী চক্র প্রায়ই ইউরোপে সহজে আশ্রয় পাওয়া যাবে, দ্রুত বৈধ কাগজপত্র মিলবে বা স্থায়ীভাবে বসবাস করা যাবে বলে ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিপজ্জনক পথে বিদেশে পাঠায়। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ আবেদন কঠোর আইনি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত