মরক্কো থেকে স্পেন নিয়ন্ত্রিত সেউতায় অভিবাসীর ঢল

 ডুবেছে ৩৪ জন

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:২১ এএম

মরক্কো থেকে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের নিয়ন্ত্রণাধীন সেউতায় প্রবেশ করেছেন। ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দেওয়ার সময় ডুবে গেছেন অন্তত ৩৪ জন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে সেউতার আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুুয়ান জেসুস ভিভাস স্পেন সরকারকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ৫০ হাজার লোক সেউতায় প্রবেশ করেন। তবে  শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৫ হাজারের মতো লোককে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী সাঁতরে কিংবা ইনফ্লেটেবল রিংসহ ভাসমান সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেউতার উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। আবার কেউ কেউ সীমান্তঘেরা একটি প্রবেশপথ দিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছেন।

উত্তর আফ্রিকার মরক্কো উপকূলে অবস্থিত সেউতা স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। জিব্রাল্টার প্রণালির ওপারে এ এলাকা ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

বিবিসি জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, সেউতা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, মানব পাচারকারী চক্রগুলো ওই রায়ের সুযোগ নিয়ে বিশেষ করে তরুণ নথিবিহীন অভিবাসীদের সেউতায় যেতে উৎসাহিত করছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, অভিবাসনসহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মরক্কোর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশই অবৈধভাবে সেউতায় প্রবেশকারীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপে সম্মত হয়েছে।

সেউতায় ঠিক কতজন প্রবেশ করেছেন, তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই বলেছে, বৃহস্পতিবার ‘শত শত’ মানুষ সেউতায় প্রবেশ করেছে, যাদের অধিকাংশই মরক্কোর তরুণ।

সেউতার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান ভিভাস বলেন, গত কয়েক মাসে সমুদ্র থেকে ৬০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, সেউতা এখন মানবিক ও নিরাপত্তা উভয় সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। ওই সময় কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। ওই ঘটনা স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।

সেউতা ও মেলিলা উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এগুলোই আফ্রিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্থল সীমান্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত