পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হ/ত্যা

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধ/র্ষণের পর গলা কেটে হ/ত্যার ঘটনা ঘটেছে। রামিসা নামে ওই শিশুকে হ/ত্যার পর মা/থা শরীর থেকে বি/চ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সোহেল (৩২) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

লামিসা বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই বাসার তৃতীয় তলায় থাকত। তৃতীয় তলায় আরও দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর একটিতে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকেন। আরেকটিতে যারা ভাড়া থাকেন, তারা ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে গেছেন। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট ও এসবি সদস্যরা উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকে তার মা। পুরো ভবনের কোথায়ও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে যে ফ্ল্যাটে রামিসাকে  হ/ত্যা করা হয়েছে, সেই ফ্ল্যাটের বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে লামিসার জুতা দেখতে পায় তার মা। তখন সোহেলের বাসায় নক করতে থাকেন মা। কিন্তু ভেতর থেকে দরজা খুলছিল না। দীর্ঘসময় ধরে নক করার পরও দরজা না খোলায় শিশুটির মা প্রতিবেশীদের নিয়ে আবারও নক করেন। কিন্তু এরপরও দরজা খুলছিল না। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে পল্লবী থানা পুলিশের একটি টিম ওই বাসায় যায় এবং দরজায় নক করে। একটা পর্যায়ে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না দরজা খুলে দেন। এ সময় ভেতরে প্রবেশ করতেই রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখতে পায় পুলিশ ও নিহতের পরিবার। পরে সোহেলের খাটের নিচ থেকে লামিসার ম/স্তকবিহীন দেহ ও র/ক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়। আর বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে বি/চ্ছিন্ন মা/থাটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তৃতীয় তলার একটি জানালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। ওই জানালা দিয়ে সোহেল পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে। সোহেলকে গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশের একাধিক টিম।

পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, শিশুটিকে ধ/র্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সোহেলের পরিবারের কোনো বিরোধ ছিল কি না, নাকি অন্য কিছু তা এখনো জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। আমার আরেকটা মেয়ে রয়েছে, ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। ওরা বাসায় ছিল। কোন ফাঁকে আমার ছোট্ট মেয়েটা জানোয়ারের (সোহেল) বাসায় গেছে, নাকি সোহেলই ডেকে নিয়েছে, জানি না। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে আমার স্ত্রী কল করলে দ্রুত চলে আসি। এর মধ্যেই শুনি আমার মেয়ে আর নেই। আমি সোহেলের ফাঁসি চাই।

শিশু খু/নের খবরে ওই বাসার সামনে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। কেউ বাসার ভিডিও করতে থাকেন, কেউ কেউ ঘটনাটি জানার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর ফাঁসি চান এলাকাবাসী। তারা জানান, ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রীও বাসায় ছিল। সে তো অন্তত বাধা দিতে পারত। বাধা না দিয়ে উল্টো স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় ঘাতক সোহেল। তাকে হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে থানা পুলিশ, ডিবিসহ অন্যান্য সংস্থা। অবশেষে রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার রাত ৮টার দিকে জানান, সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার স্ত্রীও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সোহেল রিকশা মেরামতের পর রঙ দেওয়ার কাজ করত। কি কারণে ঘটনাটি সে ঘটিয়েছে, সেটি বের করার চেষ্টা চলছে।

ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃ/ত্যু : এদিকে সোমবার গভীর রাতে গেন্ডারিয়ার কে বি রোড লোহারপুল ৯৭ নম্বর বাসায় ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ সিয়াম (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার বাবার নাম মন্টু মিয়া।

সিয়ামকে বড় ভাই পিন্টু জানান, পল্টনে একটি ট্রাভেলসে চাকরি করতেন সিয়াম। সোমবার রাত ৩টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি তার ছোট ভাই নিয়ামকে র/ক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কে বা কারা ছুরিকাঘাত করেছে, এ বিষয়ে কিছু জানেন না তিনি। তারা তিন ভাই এবং সিয়াম সবার ছোট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত