হামের প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ রোগে চিকিৎসাব্যবস্থায় উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ৪ দাবি জানিয়েছে জামায়াত। গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিবৃতি দেন।
তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে সাড়ে চারশ ছাড়িয়েছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং একটি স্বাধীন দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য চরম উদ্বেগের।’
পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘সঠিক সময়ে যথাযথ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের অভাব, টিকাদান কর্মসূচির স্থবিরতা এবং গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতার কারণেই আজ পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।’ জনস্বাস্থ্যের এই চরম সংকটের মুহূর্তেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ধরনের জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা দৃশ্যমান হচ্ছে না। রোগ ছড়ানোর উৎস চিহ্নিত করা, আক্রান্তদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।’
বিপর্যয়কর এই পরিস্থিতি থেকে দেশের মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চার দফা দাবি জানান জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল। এগুলো হলোÑ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য অবিলম্বে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়ে শতভাগ হামের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে, আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করে জরুরি ওষুধ ও পুষ্টি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, দেশের সব সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় হাম রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে এবং রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সব স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনশক্তিকে নিজ নিজ এলাকায় হামে আক্রান্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং টিকাদান কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
