দুই শিশু পাচারের চেষ্টা বাবাসহ তিনজন গ্রেপ্তার

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর কাছে দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে আপন দুই সন্তানকে অপহরণ করে পাচারকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেন মাদক ও জুয়ায় আসক্ত এক বাবা। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে অপহৃত দুই শিশুকে রাজধানীর পল্লবী থেকে উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত মানব পাচারচক্রের তিন সদস্যকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর বাবা মেজবাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তি এলাকার টিঅ্যন্ডটি গেট এলাকা থেকে মামলার হোতা এমদাদুল হক রাব্বানীকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিনকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে অপহৃত ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১৩ মে রাতে সাভারের আড়াপাড়া এলাকার নিঝুমনিবাস এলাকা থেকে অপর ভিকটিম পাঁচ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুদ্বয়ের পিতা মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরিয়ান (৫) ও আব্দুর রহমান জুবায়েত (২৮ দিন) নামে দুই সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেজবাহ উদ্দিন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং সংসারে কলহ সৃষ্টি করেন। পাশাপাশি স্ত্রীকে টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।

গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় মেজবাহ উদ্দিন তার পূর্বপরিচিত এমদাদুল হক রাব্বানীর সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে দুই সন্তানকে বাসা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যান। এ ঘটনার শিশুদের মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পিবিআই জানায়, তদন্তে গ্রেপ্তারকৃত এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানব পাচারচক্রের সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারকে টার্গেট করে শিশু সংগ্রহ করে পাচার করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। শিশু দুইটির পিতা মেজবাহ উদ্দিন মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও তদন্তে জানা গেছে। তিনি একাধিক বিয়ে করে নিজের সন্তানদের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আরও পাচার হওয়া শিশুদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত