বিদেশ পাঠানোর নামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পিবিআই এ কথা জানায়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ডাঙ্গির ছলেয়াপাড়া গ্রামের মো. খাইরুল ইসলাম (২৪) ও একই উপজেলার বকসাপাড়ার মো. জাবেদুল ইসলাম (৩৮)। তারা অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন।

গত রবিবার রাতে সৈয়দপুরের জিকরুল হক রোডের মোবাইল মার্ট নামে বিকাশ অফিস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৫ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় মামলা করেন মোহাম্মদ সামাল নামে এক ব্যক্তি।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র অস্ট্রেলিয়ার দুটি নম্বর থেকে মুঠোফোনে ইমো অ্যাপের মাধ্যমে মোহাম্মদ সামালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সামালকে উচ্চ বেতনে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখান তারা। প্রতারক চক্রটি গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সামাল ও তার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। চক্রটি একপর্যায়ে সামালের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে সামাল নিঃস্ব হয়ে পড়েন। গত ১৫ মার্চ প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা করেন সামাল।

পিবিআই স্ব-উদ্যোগে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো.  শাহাদাত হোসেন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা বিকাশ নম্বরগুলোর ‘আপনার গ্রাহককে জানুন’ (কেওয়াইসি) ও স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে পিবিআই। গত রবিবার পিবিআইয়ের একটি দল নীলফামারীর সৈয়দপুর এলাকায় অভিযান চালায়। জিকরুল হক রোডের মোবাইল মার্ট নামে বিকাশ কার্যালয় থেকে সাইবার ও ভিসা প্রতারক চক্রের মূল খাইরুল ও বিকাশের বিতরণ বিক্রয় কর্মকর্তা (ডিএসও) জাবেদুলকে গ্রেপ্তার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি পিবিআইয়ের কাছে স্বীকার করেছে তারা।

সোমবার সন্ধ্যায় তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীরের আদালতে ঘটনার দায় স্বাীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত