কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে জলাবদ্ধতার কারণে কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে হাঁটুসমান পানি, চারদিকে কাদা আর দুর্গন্ধ, এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
বুধবার (২০ মে) উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা গেছে, পুরো মাঠজুড়ে থৈ থৈ পানি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে ছোট্ট কোনো নদীর উপর দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয় দুটি। পানিতে ভাসছে হাঁস, দেখা মিলছে ছোট মাছেরও। বিদ্যালয়ের বারান্দা পর্যন্ত উঠে এসেছে পানি।
স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে আশপাশের ফসলি জমির পানি এসে জমে থাকে বিদ্যালয় মাঠে। কিন্তু পানি বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দিন দিন পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে আসতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে বই-খাতা, ব্যাগ ও ইউনিফর্ম ভিজে যাচ্ছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আমিনা খাতুন রিতু, রুকাইয়া খাতুন ও মায়া খাতুন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রমজান আলী বলেন, স্কুলে আসতে খুব কষ্ট হয়। পানি আর কাদার কারণে ঠিকমতো ক্লাসও করতে পারছি না।
সহকারী শিক্ষক নূর ইসলাম মণ্ডল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছি ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। দুর্গন্ধে ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী জ্বর, সর্দি-কাশি, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়ের পাশের সড়কের একটি কালভার্ট কয়েক মাস আগে ভেঙে যায়। পরে সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। নতুন করে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যালয় মাঠের পাশেই রয়েছে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠ। প্রতিবছর যেখানে হাজারো মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু এবার জলাবদ্ধতার কারণে আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ সেখানে আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন খেলাধুলা বন্ধ থাকায় শিশু-কিশোররা মোবাইল ও মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়তে পারে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত একটি কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নতুন কালভার্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
