সাবিকুন নাহার নামে রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার দিন গত বুধবার স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ওই ছাত্রীকে পরীক্ষার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে গালাগাল এবং তার মাকে স্কুলে ডেকে পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রবেশপথে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। জানা গেছে, বুধবার দশম শ্রেণির বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ের মডেল টেস্ট ছিল। অর্থনীতি পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন না পড়ায় সাবিকুন নাহার পরীক্ষার হলে চুপ করে বসে ছিল। ‘একপর্যায়ে সে খাতায় কিছু একটা আঁকা শুরু করে। দেখতে পেয়ে ইকোনমিকস মিস তার খাতা নিয়ে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ হাসান লিটনের কাছে পাঠান। তিনি অনেকটা সময় ধরে সাবিকুনকে বকাঝকা ও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।’ পরে সেখান থেকে বেরিয়ে ক্লাসে না ফিরে বাসায় চলে যায় সাবিকুন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর মাকে মোবাইল ফোনে কল করে স্কুলে আসতে বলা হয়। এ ঘটনায় তার মা বিরক্ত হয়ে মেয়েকে বকাঝকা করেন। পরে বিকেলে দনিয়ার নিজ বাসায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে সাবিকুন।
এ ঘটনায় ব্রাইট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্রাইট গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন এবং অধ্যক্ষ মো. মাইদুর রহমান জেমকে স্কুল ক্যাম্পাসে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের ‘চাপ ও দুর্ব্যবহারের কারণে’ সাবিকুন নাহার আত্মহত্যা করেছে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভ চলে। পরে যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, বুধবার ওই শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। প্রাথমিকভাবে জানতে পারি, মায়ের ওপর অভিমান করে সে গলায় ফাঁস নিয়েছে। সেজন্য পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত করা হয়নি। শুধু মরদেহের সুরতহাল করা হয়।
সাবিকুন নাহারের সহপাঠী এক ছাত্রী বলে, তার বান্ধবী পরীক্ষায় নকলও করেনি, কাউকে দেখেও লিখছিল না। অকারণে তাকে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করে। একটা মেয়েকে এভাবে বললে লজ্জায় তার বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হবে না। আমরা মনে করি, স্কুলের চেয়ারম্যানের অত্যাচারে সাবিকুন নাহার এ পথ বেছে নিয়েছে। তাই এটি আত্মহত্যা নয়, মার্ডার। আমরা লিটনের বিচার চাই।
সাবিকুন নাহারের বাবার নাম খলিলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। পরিবারের সঙ্গে দনিয়ার নাসির উদ্দীন সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকত সাবিকুন। ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মঈদুর রহমান বলেন, ‘সহপাঠী আত্মহত্যা করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।’ ছাত্রীকে গালিগালাজ করা এবং তার মাকে ডেকে পাঠানোর অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ফোনকল কেটে দেন।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার মুঠোফোনে এসএসএম পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।
