আমিও যাব পশুর হাটে

আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

শাহিয়ান মুত্তাকী

শিক্ষার্থী, ষষ্ঠ শ্রেণি, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, গ্রিন মডেল টাউন শাখা, মুগদা, ঢাকা

আর কয়েক দিন পরই কোরবানি ঈদ। কোরবানির পশু কেনার জন্য বিকেলবেলা বাবা হাটে যাবেন। আমিও বায়না ধরি

হাটে যাওয়ার। বাবা বলেন, হাটে যাওয়া বেশ কষ্টের। পারবে তো? আমি বলি,

হ্যাঁ, পারব।

অবশেষে আমি, বাবা আর ভাইয়া দুপুরের খাওয়াদাওয়া শেষ করে হাটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট হালকা ভিজে গেছে। তাই সবাই প্লাস্টিকের স্যান্ডেল পরে নিলাম। হাটে রওনা হলাম।

হাটে গিয়ে দেখি ওমা! গরু আর গরু। নানা জাতের। মহিষের মতো শিংওয়ালা সাদা রঙের বিশাল বিশাল গরু দেখতে পেলাম। যা আগে কখনো দেখিনি। বাবা বললেন এগুলো বিদেশি জাতের। লাল, সাদা, কালো, ধূসর নানা রঙের গরু হাট ভরা। কোনোটার শিং ছোট। কোনোটার শিং মস্ত বড়। দেখেই ভয় লাগছে। যদি তেড়ে আসে?

পাশেই দেখি একটা কালো গরু সত্যিই তেড়ে আসছে। ভয়ে ভয়ে বাবার পিছু পিছু পা টিপে টিপে হাঁটলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে ভয় কেটে গেল। গরুর হাটের পাশে ছাগলের হাটও দেখলাম। হাঁটতে হাঁটতে সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে আমরা একটা লাল রঙের গরু কিনতে পারলাম। অনেক সুন্দর দেখতে। শিং দুটি মাঝারি। বেশ নাদুসনুদুস। গরুটি বেশ শান্ত। হাট থেকে একজন রাখালের সহযোগিতায় পিকআপে তুলে আমাদের এবারের কোরবানির গরুটি বাড়িতে নিয়ে আসলাম। আসতে আসতে ফোনে ভিডিও করে আম্মুকে পাঠিয়ে দেই। বাড়িতে পৌঁছে গরুটিকে আমাদের বিল্ডিংয়ের গ্যারেজে রাখি। আম্মু নিচে নেমে এসে দেখে বলেন, মাশাআল্লাহ, দারুণ হয়েছে! লাল রঙের হওয়ায় আমরা সবাই মিলে ওর নাম দেই লালি।

আম্মু আগেই ভাতের মাড় রেখে দিয়েছেন। একটু লবণ মিশিয়ে খেতে দেই। জার্নিতে ক্লান্ত হয়ে বেশ পিপাসা লেগেছিল। তাই খুশি হয়ে চুকচুক করে সবটুকু মাড় খেয়ে সাবাড়। আজকের মতো ওকে বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে আমরাও বাসায় গেলাম।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই আমি আর ভাইয়া লালিকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। ঘাস, ভুসি, খড় প্রভৃতি একটার পর একটা খেতে দেই। সারা দিন লালিকে অনেক আদর-যতœ করি। এভাবে তিন দিন কেটে যায়। ঈদের দিন চলে আসে। লালিকে কোরবানি করার সময় ঘনিয়ে আসে। মনটা কেঁদে ওঠে। কিন্তু এটাই নিয়ম। প্রিয় বস্তু  কোরবানি করাই আল্লাহর আদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত