যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার মধ্যেই ভারত সফরে পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও । শনিবার (২৩ মে) তিনি ভারতে পৌঁছান। আগামী সপ্তাহে কোয়াড জোটভুক্ত ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়ে পড়ে। ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে রুবিওর এই সফরকে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চার দিনের সফরের বড় একটি অংশজুড়ে থাকবে ভারতের বিভিন্ন শহর পরিদর্শন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। ভারত সফরের আগে রুবিও বলেন, 'ভারতের সঙ্গে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। তারা আমাদের বড় মিত্র ও অংশীদার। আমরা একসঙ্গে অনেক ভালো কাজ করছি, তাই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
শনিবার ভোরে তিনি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কলকাতায় পৌঁছান। সেখানে তিনি মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দপ্তর ‘মাদার হাউস’ পরিদর্শন করবেন। সফরের পরবর্তী সময়ে তিনি আগ্রা ও জয়পুরও সফর করবেন, যেগুলো ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রাসাদের জন্য পরিচিত।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুভ্রমনিয়ম জয়শংকর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য কোয়াডের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন রুবিও। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের এই কৌশলগত জোটটি দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক ভূখণ্ড নিয়ে আগ্রাসী অবস্থানের জন্য বারবার চীনের সমালোচনা করে আসছে।
তবে বেইজিং দাবি করে, তাদের সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং সার্বভৌম অধিকার রক্ষার জন্য পরিচালিত। একই সঙ্গে চীন কোয়াডকে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও প্রভাব সীমিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখে।
গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর রুবিওর প্রথম আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মসূচিও ছিল কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যৌথ ও পৃথক বৈঠক।
