পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে ধীরে ধীরে ক্রেতা ও বিক্রেতার আনাগোনা বাড়ছে। যাত্রাবাড়ীর কাজলা-শনিরআখড়া হাটেও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে পশু আনা-নেওয়া, হাট সাজানো ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাজলা ব্রিজ থেকে শনিরআখড়া আন্ডারপাস পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অস্থায়ী হাট গড়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকভর্তি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আসছে। সড়কের দুই পাশে সারি সারি পশু বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে, পাশাপাশি চলছে ছাউনি ও প্যান্ডেল নির্মাণ।
এবার বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা। বৃষ্টি থেকে পশু ও খামারিদের রক্ষায় বড় আকারের ত্রিপল টানানো হচ্ছে। নিচু জায়গায় পানি জমা রোধে বালু ফেলা হয়েছে, পাশাপাশি খড় ও কাঠের অস্থায়ী মাচাও তৈরি করা হয়েছে।
কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল মৃধাবাড়ী এলাকার হাটটির ইজারা নিয়েছে কে বি ট্রেড। প্রায় তিন কোটি ৬৫ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া এই হাটে প্রতিদিনই নতুন পশু আসছে। তবে ক্রেতারা এখনো মূলত ঘুরে দেখছেন, দামদর করছেন, চূড়ান্ত কেনাকাটা শুরু হয়নি।
সিরাজগঞ্জ ও কুষ্টিয়া থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানান, খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার লাভের আশা কিছুটা অনিশ্চিত হলেও তারা ঈদের আগ মুহূর্তে ভালো বিক্রির আশা করছেন। তাদের মতে, মূল বেচাকেনা শুরু হবে ঈদের কয়েক দিন আগে।
হাটে শুধু ক্রেতা-বিক্রেতাই নয়, উৎসুক দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়ছে। বিকেলে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে অনেকেই পশু দেখতে আসছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, শুরুতেই দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে, ফলে অনেকে অপেক্ষায় রয়েছেন।
হাট ইজারাদার মো. শামীম খান বলেন, “বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যেই হাট পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশা করছি।”
এবারের ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শেষ সময়ে হাটগুলো আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা।
