ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্তমুন্সি গ্রামে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে শতাধিক গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। এতে সাময়িকভাবে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার পর হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে প্রবল বৃষ্টি ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে তীব্র বেগে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। কয়েক মিনিটের এই ঝড়ে গুপ্তমুন্সি গ্রামজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হিরণ জানান, ঝড়ের আঘাতে তার বাড়ির সামনে অবস্থিত গুপ্তমুন্সি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘর দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ঘূর্ণিবাতাসে টিনের চাল উড়ে পাশের বিলে গিয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চ ছিটকে আশপাশের জমিতে গিয়ে পড়ে। এ ছাড়া তার তিনটি কাঁঠাল গাছ উপড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পাশের একটি বাড়ির রান্নাঘর ও টিনের বারান্দাও উড়ে গেছে। একই এলাকার বাসিন্দা মো. খোকন জানান, ঝড়ের সময় একটি বড় চাম্বুল গাছ তার টিনের ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘরের পেছনের দিকে সরে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তার স্ত্রী ও সন্তানরা। ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মাতাব্বর জানান, গুপ্তমুন্সি-পরানগঞ্জ সড়কের পাশে অন্তত ৫০টির বেশি বড় গাছ উপড়ে পড়ে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা ডালপালা কেটে গাছ সরানোর কাজ করছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে অন্তত ১০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঝড়ের পর থেকেই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
