সৈকতে মৃত ইরাবতী ডলফিন

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি মৃত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন ভেসে এসেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব পাশে ট্যুরিজম পার্ক সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ফুট দীর্ঘ ডলফিনটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, ডলফিনটি পাঁচ থেকে সাত দিন আগে মারা গেছে। খবর পেয়ে উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (উপরা), বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় মৃত ডলফিনটি মাটিচাপা দেওয়া হয়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, ‘আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনো নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটছে। আমরা চাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থাগুলো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে অনুসন্ধান করুক।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘ডলফিন শুধু সামুদ্রিক প্রাণী নয়, এটি সমুদ্র পরিবেশের স্বাস্থ্য ও ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ডলফিনের উপস্থিতি সমুদ্রের ইকোসিস্টেম সুস্থ রাখতে সহায়তা করে, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে এবং স্থানীয় পর্যটন ও জীবিকার ক্ষেত্রেও অবদান রাখে।

তিনি আরও জানান, মৃত প্রাণীটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন (Orcaella brevirostris)। শরীরে রক্তাক্ত দাগের উপস্থিতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানের আঘাত, মাছ ধরার জাল বা জেলেদের কার্যক্রম ডলফিনটির মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এছাড়া নদী ও মোহনার দূষিত পানি, শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেলজাতীয় বর্জ্যও সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, ‘আমরা উপকূলজুড়ে ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করছি। ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত সৈকতে ৬টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।’

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে টিম পাঠানো হয়েছে। মৃত ডলফিনটি যাতে দুর্গন্ধ ছড়াতে না পারে, সে জন্য মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত