পর্যটক বরণে প্রস্তুত চায়ের রাজ্য

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ০৭:২১ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা এক সপ্তাহের ছুটি শুরু আজ সোমবার থেকে। এ ছুটিকে সামনে রেখে ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত চায়ের রাজ্যখ্যাত জেলা মৌলভীবাজার। ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের জন্য জেলার পাঁচতারকা মানের হোটেল-রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজগুলোতে ঘোষণা করা হয়েছে নানা আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ পর্যটকদের কাছে বেশি আগ্রহের। ঈদের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে বিশেষ করে শহরের বাইরের বিভিন্ন রিসোর্ট ও কটেজে ভ্রমণপ্রেমীদের আগাম বুকিংয়ের চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে।

পর্যটন-সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, পর্যটকদের বড় একটি অংশ শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চায়। তাই তাদের বরণ করতে ইতিমধ্যে শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ, পাঁচতারকা মানের হোটেল ও গেস্ট হাউজগুলোর সাজসজ্জাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন নামিদামি চাইনিজ ও থাই খাবারের ক্যাফে-রেস্টুরেন্টগুলো নতুন সাজে সজ্জিত হয়েছে। পর্যটকদের জন্য ঈদের বুকিংয়ে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য শতাধিক চান্দের গাড়ি (জিপ) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতি বছরই সিলেটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম ঘটে মৌলভীবাজারে। সবুজে মোড়া উঁচুনিচু চা-বাগান, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এ অঞ্চল অত্যন্ত জনপ্রিয়। পর্যটকরা মূলত দেখতে আসেন প্রকৃতির রূপে সজ্জিত চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর, মাধবপুর লেক, মাধবকু- জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, রাবার বাগান, আনারস বাগান, লেবুবাগান, চা-গাছে সজ্জিত দার্জিলিং টিলা, খাসিয়াপুঞ্জি, মনিপুরী সম্প্রদায়ের তাঁতশিল্প, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বাংলাদেশ চা-গবেষণা ইনস্টিটিউট, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।

কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে পর্যটকদের জন্য আমরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছি। বরাবরের মতো এবারও আমাদের রিসোর্টে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে।’অরণ্য নিবাস ইকো রির্সোটের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান কবির সবুজ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের রিসোর্টে ৫০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, ঈদের আগে শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হবে।’

পাঁচ তারকামানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের জেনারেল ম্যানেজার আরমান খান বলেন, ‘একদিকে চা-বাগানের অপার সৌন্দর্য, অন্যদিকে প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এই অঞ্চলে ট্যুরিস্টদের আনাগোনা সবসময়ই একটু বেশি। ঈদুল আজহার ছুটিতে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট অফার দেওয়া হয়েছে। গত ঈদুল ফিতরেও পর্যটক আশানুরূপ ছিল।’

মৌলভীবাজার পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ঈদুল আজহার টানা ছুটি থাকলেও মূলত ঈদের পর দিন থেকে হোটেল-রিসোর্ট বুকিং হয়ে থাকে। ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে মোটামুটি ভালো পর্যটক সমাগমের আশা করছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। আগামী ২৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বুকিং চলছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনও সর্তক অবস্থানে রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ জোনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের সমন্বয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি যৌথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পর্যটকরা যাতে নির্বিঘেœ ও নিরাপদে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসন্ন ঈদে যানজট নিরসনে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত