লঞ্চের বদলে ট্রলারই ভরসা

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন ভোলা-লক্ষ্মীপুরের যাত্রীরা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ১২:২২ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে ঘরমুখো মানুষের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। তবে যাত্রী সাধারণের এই বাড়তি চাপের তুলনায় নিরাপদ নৌযানের সংখ্যা পর্যাপ্ত না থাকায় নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে ছোট ছোট ট্রলারে চড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিচ্ছেন হাজারো যাত্রী। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, তীব্র গরম এবং গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে নারী ও শিশুসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবহাওয়া বিবেচনা করে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটকে প্রতি বছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত 'ডেঞ্জার জোন' বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে ছোট ও অনিরাপদ নৌযান চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাটে প্রশাসনের উপস্থিতি থাকার পরও কোনো কার্যকর তদারকি ছাড়াই প্রকাশ্যে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

গত সোমবার (২৫ মে) সকালে মজু চৌধুরীর ঘাট ও ভোলার ইলিশা ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। মেঘনা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে কয়েকটি লঞ্চ মাঝনদীতে ডুবোচরে আটকে পড়লে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছায়। এই সুযোগে ঘাটে সক্রিয় হয়ে ওঠে অবৈধ ট্রলার সিন্ডিকেট। অনেক যাত্রী লঞ্চে জায়গা না পেয়ে কিংবা দ্রুত বাড়ি ফেরার তাগিদে বাধ্য হয়ে ট্রলারে উঠছেন। কোনো রকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম (লাইফ জ্যাকেট) ছাড়াই ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে ট্রলারগুলো চলাচল করছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী মো. রাকিব জানান, ভোর থেকে ঘাটে অপেক্ষা করেও তিনি লঞ্চে উঠতে পারেননি। বাধ্য হয়ে ট্রলারে উঠেছেন, যেখানে নির্ধারিত ১৮০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। চরফ্যাসনগামী আরেক যাত্রী মো. ইকরাম জানান, তার লঞ্চটি মাঝনদীতে ডুবোচরে আটকে যাওয়ার পর অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ট্রলারে করে ইলিশা ঘাটে পৌঁছাতে হয়েছে। পুরো পথ নদী উত্তাল থাকায় পরিবার নিয়ে প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন তিনি।

ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রলারচালকরা দাবি করেন, তারা মূলত যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতেই কাজ করছেন। এমবি আফনান খন্দকার-০২ ট্রলারের চালক মো. শাজাহান বলেন, ‌‘ডুবোচরে লঞ্চ আটকে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন, তাই মানবিক কারণে তাদের পারাপার করা হচ্ছে।’

এদিকে ভোলার বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক নির্মল কান্তি দে নদীতে নাব্য সংকটের কারণে লঞ্চ আটকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘাটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যাত্রীদের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত নৌযান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা মনে করছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কীভাবে প্রশাসনের সামনে অনিরাপদ ট্রলারে যাত্রী বহন করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বড় দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর তদারকি এবং পর্যাপ্ত নিরাপদ নৌযানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত