শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বাজার

আপডেট : ২৬ মে ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

সারা দেশের মতো পাবনা জেলাতেও বইছে পবিত্র ঈদুল আজহার আবহ। ত্যাগের মহিমায় নিজেকে শামিল করতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। ঈদের আর মাত্র একদিন বাকি থাকায় নিজেদের পছন্দের পশুটি কিনতে জেলার হাটগুলোতে ভিড় করছেন হাজারো ক্রেতা। স্থানীয় খামারি, সাধারণ গৃহস্থ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছে পাবনার ছোট-বড় প্রতিটি কোরবানির পশুর হাট।

পাবনার ঐতিহ্যবাহী হাজিরহাট, আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাট, ঈশ্বরদীর অরণখোলা হাট, সাঁথিয়ার করমজা হাট, ভাঙ্গুড়ার শরৎনগর হাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা এবং বেড়ার চতুর হাটসহ বেশ কয়েকটি প্রধান বাজার ঘুরে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।

পাবনা শহরতলীর হাজিরহাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার গরু ও মহিষের আমদানিতে পুরো হাট প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ। হাটের নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে বেচাকেনা ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের সংযোগ সড়কগুলোতেও।

গরু-মহিষের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে জমে উঠেছে ছাগলের হাটগুলোও। সেখানেও পা ফেলার জায়গা নেই। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকার ও সাধারণ ক্রেতাদের দরদামে মুখর পুরো পরিবেশ। তবে বাজারে বিশালাকৃতির পশুর চেয়ে মাঝারি এবং ছোট আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে তুলনামূলকভাবে ছোট ও মাঝারি পশুর দাম কিছুটা চড়া।

পশুর দাম নিয়ে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ ক্রেতাদের একাংশের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি। হাটে আসা রাকিবুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, গত বছর যে আকারের গরু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এবার তা কিনতে ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে। তবে ধর্মীয় আবেগ ও ত্যাগের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট কিছুটা বাড়িয়ে হলেও পছন্দের পশু কিনেই বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে, বিক্রেতা ও খামারিরা দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কারণ হিসেবে গো-খাদ্যের আকাশচুম্বী মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। ইকরামুল প্রামাণিক নামের এক খামারি জানান, বর্তমান বাজারে ঘাস, ভুষি ও খৈলসহ সব ধরণের গো-খাদ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পশু লালন-পালনের খরচ অনেক বেশি হয়েছে। সেই অনুপাতে পশুর দাম খুব একটা বেশি বলা যায় না। তবে বাজারে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং নিয়মিত বেচাকেনা হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু উৎপাদন হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জানান, ছোট-বড় খামার এবং সাধারণ গৃহস্থ মিলিয়ে এবার পাবনা জেলায় মোট ৬ লাখ ৫৩ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জানান, স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকি প্রায় ৩ লাখের বেশি উদ্বৃত্ত পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পশুর হাটে রফতানি করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা ও পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলাজুড়ে অনুমোদিত ২৫টি পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে এবং অসুস্থ পশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ২৫টি বিশেষ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত