ফাঁকা ঢাকায় স্বস্তি, বাড়তি ভাড়ায় অস্বস্তি!

আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে শান্ত ও ফাঁকা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে লাখ লাখ মানুষ গ্রামে ফিরে যাওয়ায় কোলাহলপূর্ণ নগরীতে স্বস্তি নেমে এসেছে। হর্ন আর যানজটের শব্দে কান ঝালাপালা হওয়া প্রধান সড়কগুলো এখন সুনসান। সিগন্যালে নেই গাড়ির লম্বা সারি, মোড়ে মোড়ে নেই বাসের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড়। পিচঢালা পথগুলো যেন মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে।

তবে ফাঁকা শহরের এই শান্ত পরিবেশের মাঝেই নগরবাসী পড়েছেন ভোগান্তিতে। কোরবানি ও অন্যান্য কাজে রাজপথে বের হয়ে তারা বিভিন্ন পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নীরব হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

‘ঈদের দিন’, ‘গাড়ি কম’, কিংবা ‘ঈদের বকশিশ’-এসব অজুহাতে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মিরপুর-১০ নম্বরে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের দিন মেট্রো ট্রেন বন্ধ থাকে, তাই বাধ্য হয়ে বাস বা রিকশার খোঁজ করছি। রাস্তায় জাম না থাকায় স্বস্তি পাচ্ছিলাম। কিন্তু মিরপুর-১০ থেকে যেদিকেই যেতে চাই, ভাড়া অনেক বেশি চাইছে। ঈদের দিন বলে কি তাদের পকেট কাটার লাইসেন্স মিলেছে?

গৃহিণী ফারিহা ইয়াসমিন জানান, পরিবার নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় যাব বলে সিএনজি খুঁজছিলাম। অ্যাপে যে ভাড়া দেখাচ্ছে, চালকরা তার চেয়ে সরাসরি ২০০ টাকা বেশি দাবি করছেন। কাউকেই নিয়মের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে না। ফাঁকা ঢাকার সুযোগ নিয়ে সবাই সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে, রিকশাচালক মো. রহমত আলী বলেন, সবাই তো ঈদে বাড়ি চলে গেছে, আমরা যাইনি। ফাঁকা রাস্তায় কষ্ট করে রিকশা চালাচ্ছি। ঈদের দিন একটু বকশিশ বা বাড়তি ভাড়া না পেলে আমাদের ঈদ চলবে কীভাবে?

প্রজাপতি বাসের চালকের সহকারী সুজন মিয়া বলেন, আজ রাস্তায় যাত্রী অনেক কম। একটি ট্রিপে তেলের খরচ তোলাই কঠিন। ঈদের দিন আমরা পরিবার ছেড়ে ডিউটি করছি, একটু বেশি ভাড়া না নিলে মালিকের জমার টাকা দিয়ে পকেটে কিছুই থাকবে না।

ফাঁকা ঢাকার বুক চিরে যাতায়াতের স্বস্তি যেন বাড়তি ভাড়ার তিক্ততায় রূপ নিয়েছে। নগরবাসীর দাবি, উৎসবের দিনেও গণপরিবহন ও রিকশার ভাড়ার ওপর প্রশাসনের নজরদারি থাকা উচিত, যাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি হতে না হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত