বাজেটের পর নতুন কমিশন পাচ্ছে বিএসইসি

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০২:০০ এএম

সরকার গঠনের তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দায়িত্বরত শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসেনি। যোগ্য ব্যক্তি খুঁজতে সময়ে লেগে যাচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে পুঁজিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ এখনও হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীসহ শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমালোচনা চলছে। তবে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় একজন নতুন চেয়ারম্যান এবং চারজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭ : প্রত্যাশা ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সম্পূর্ণ পেশাদার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেনি।

তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। যারা সত্যিকার অর্থে ক্যাপিটাল মার্কেট বুঝেন, এমন পেশাদারদেরই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএসইসির একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই এটা দেখতে পারবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে নানা কারণে অনেক ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে চাইত না। কিন্তু পলিসি সংস্কার ও সার্বিক পরিবর্তনের কারণে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে। অনেক উদ্যোক্তা এখন বলছেন, তারা শেয়ারবাজারে আসতে চান। কারণ তারা ক্যাসিনোতে নয়, প্রকৃত স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে চান বলেন আমির খসরু।

তার মতে, ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে ব্যাংকনির্ভরতা কমবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার ও বন্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

এ সময় তিনি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় শেয়ার সার্টিফিকেট জালিয়াতি, একই শেয়ার একাধিকবার বিক্রি বা বন্ধক রাখার মতো নানা অনিয়ম ছিল। এসব সমস্যা দূর করতে শেয়ারকে কাগজভিত্তিক ব্যবস্থা থেকে বের করে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, সিডিবিএলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নিজে এ উদ্যোগে যুক্ত ছিলাম। সংসদে আইন পাস করতে হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বোঝাতে হয়েছে। তখন অনেকেই বুঝতে চাইতেন না সিডিবিএল কী। তার মতে, বর্তমানে অনলাইন ও রিয়েল টাইম ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজার অনেক বেশি আধুনিক ও স্বচ্ছ হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত