চেষ্টা ও পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ মানুষকে কর্মশীল সত্তা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষের সামনে সাফল্য ও ব্যর্থতার পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, কিন্তু কোন পথে সে এগোবে এবং কী ফল লাভ করবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে তার চেষ্টা, সাধনা ও কর্মের ওপর। এ সত্যকে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন, ‘মানুষ তাই পায়, যা সে চেষ্টা করে।’ (সুরা নাজম ৩৯)
এই আয়াত মানুষের ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ ও কর্মপ্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে। ইসলাম মানুষকে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকার শিক্ষা দেয় না। বরং চেষ্টা, পরিশ্রম ও আল্লাহর ওপর ভরসার সমন্বয় করতে বলে। মানুষ যে পরিমাণ শ্রম ও আন্তরিকতা নিয়ে কোনো কাজে আত্মনিয়োগ করবে, সে অনুযায়ী ফল লাভ করবে। পরকালের প্রতিদানও মানুষের নিজস্ব আমলের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না, আবার অন্যের কর্মের প্রতিদানও নিজের জন্য দাবি করতে পারবে না।
প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, এই আয়াতের মূল শিক্ষা হলো, মানুষ তার নিজের কর্ম ও প্রচেষ্টার ফলই ভোগ করবে। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও কর্মনিষ্ঠা অপরিহার্য। যারা সাফল্য অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য এই আয়াত এক শক্তিশালী প্রেরণা। কারণ ইসলাম অলসতা ও কর্মবিমুখতাকে কখনো সমর্থন করে না।
একই সঙ্গে এই আয়াত মানুষকে পরকালের প্রস্তুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। দুনিয়ার সম্পদ, খ্যাতি কিংবা মর্যাদা মৃত্যুর পর সঙ্গে যাবে না। সঙ্গে যাবে কেবল তার সৎকর্ম। তাই একজন মুমিনের উচিত প্রতিটি কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা এবং নেক আমলের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা।
তবে মানুষের কিছু আমলের প্রভাব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয় ছাড়া। সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম) প্রকৃতপক্ষে এগুলোও মানুষের নিজের প্রচেষ্টা ও কর্মেরই ধারাবাহিক ফল।
বর্তমান সময়ে অনেকেই দ্রুত সাফল্যের স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিশ্রম করতে চান না। অথচ আল্লাহর বিধান হলো, ফল লাভের জন্য চেষ্টা অপরিহার্য। কৃষক বীজ বপন না করে যেমন ফসল পায় না, তেমনি পরিশ্রম ছাড়া কোনো মানুষ প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারে না। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের কর্মঠ, অধ্যবসায়ী ও দায়িত্বশীল হতে হবে। মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহ মানুষের চেষ্টা বৃথা যেতে দেন না। আজকের আন্তরিক পরিশ্রমই আগামী দিনের সফলতার ভিত্তি, আর নেক আমলই হবে পরকালের মুক্তির পাথেয়।
রুমির কবিতায় আত্মার মুক্তি ও শাশ্বত প্রেম
অন্যের দোষ চর্চা ও রুমির দর্শন