রায়গঞ্জে মাদকের বিস্তার

সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এ এলাকায় মাদকের বিস্তার এতোটাই হয়েছে যে, এর কারণে এ এলাকায় চুরি, ছিনতাই, হামলা, চাঁদাবাজি নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

মাদকের বিস্তারের প্রভাবে অপরাধমূলক নানা মূলককর্মকান্ড বিশেষ করে অটো ছিনতাই, চালক হত্যা, ধর্ষণ, ছুরিকাঘাত, চাঁদাবাজি ও হামলা-হুমকিতে দিশেহারা মানুষ। চরম আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানায়, রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা, ধানগড়া, ভূইয়াগাঁতী, পাঙ্গাসী ও ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকসেবীদের  মাদক সেবন ও কিশোর গ্যাংয়ের নানা উৎপাত ও  তৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এদের সক্রিয় তৎপরতায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ওই সব এলাকায় দলবদ্ধ আড্ডা, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া মহড়া এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে এখানকার মানুষের জনজীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, মাদক সেবীদের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করলেও একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেক অপরাধী রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি থানায় অবৈধ তদবির করে গ্রেপ্তারকৃতদের ছাড়িয়ে নেন। আবার যাদের আদালতের মাধ্যমে পুলিশ কারাগারে পাঠায় তারা অল্প সময়েই জামিনে বেরিয়ে আবারও তারা একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানায়, ওই প্রভাবশালী চক্রের কারণে এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে রায়গঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, একাধিক অটোরিকশা ছিনতাই ও চালক হত্যা, শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত, ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং চাঁদা দাবির মতো একাধিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। খুন হয়েছে একাধিক হতদরিদ্র ও নিরীহ আটোরিকশা চালক। স্থানীয়রা এসব ঘটনার পেছনে মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধচক্রকে দায়ী করেছেন।

এদিকে সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়নের চৌধুরী ঘুঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, আমার বাগানে নিয়মিত এক ব্যক্তি মাদক সেবন করতো। তাকে বাধা দিলে সে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমি  চাঁদা না দেওয়ায় সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা দিয়েছে। এখন আমি উল্টো ওই মাদকসেবীর দ্বারা হয়রানির শিকার হয়ে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, জলবায়ু ও পরিবেশ কর্মী ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, রায়গঞ্জে মাদক ও কিশোর অপরাধের বিস্তার এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাদকের কারণে কিশোররা অপরাধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বড় হুমকি। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, মাদক ও কিশোর অপরাধ একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। রায়গঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাদকবিরোধী কমিটির মাধ্যমে নানা কর্মকান্ড সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে সচেতনতামূলক সভা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ সমস্যার বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে চলছে। মাদকসেবী ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান নয়, অপরাধচক্রের পেছনের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে রায়গঞ্জে অপরাধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই এর ভয়াবহতা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত