ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১৯

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৪ জন। গতকাল সোমবার দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সংস্থাটি আরও জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়, যদিও কয়েক ঘণ্টা পর কিছু দেশের সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের পর সুনামি ঢেউ চলতে থাকায় সতর্কতা বহাল রেখেছে ফিলিপাইন। দেশটির ভূমিকম্পবিষয়ক সংস্থার বিজ্ঞান গবেষণা বিশেষজ্ঞ উইনচেল ইয়ান সেভিলা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ান নিউজ’কে বলেছেন, ‘আমরা এখনই সুনামি সতর্কতা তুলে নিচ্ছি না, কারণ আমাদের যন্ত্রগুলোতে এখনো সুনামি ঢেউ রেকর্ড হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় কিছু অস্বাভাবিক ওঠানামাও রেকর্ড করা হয়েছে।’

ভূমিকম্পের তীব্রতায় জেনারেল সান্তোস সিটিসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল এবং একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ভেঙে পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বেশিরভাগই মিন্দানাওয়ের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত। এ ছাড়া সাউথ কোটাবাটো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি প্রদেশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। ফিলিপাইনের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্র্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং সেনাবাহিনী উপদ্রুত এলাকায় জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস বলেছেন, বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর ও জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা পরিষদসহ জরুরি সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। জনগণকে সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ভূমিকম্পের দিনটি ফিলিপাইনের নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন হওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে স্কুল-কলেজের ক্লাস স্থগিত করার নির্দেশ দেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, সরকার তৎপর রয়েছে এবং আমরা মিন্দানাওবাসীকে কোনোভাবেই পেছনে ফেলে যাব না।

মূল ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ১.৩ থেকে ৬.৭ মাত্রার আরও ১৩০টিরও বেশি আফটারশক বা মৃদু ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের ধাক্কায় উপকূলীয় সারাঙ্গানি প্রদেশে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত