বিশ্বকাঁপানো ১০ গান

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

আর মাত্র দুই দিন। এরপর শুরু ফুটবল মহাযজ্ঞ। গ্যালারিভর্তি উন্মাদনা, মাঠে বিশ্বসেরাদের পায়ের জাদু। এই মহাযজ্ঞের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় বিশ্বকাপের থিম সং। সুর আর ফুটবলের মেলবন্ধন চিরকালের। একটি চমৎকার বিশ্বকাপ গান শুধু টুর্নামেন্টের আবহ তৈরি করে না, বরং যুগের পর যুগ কোটি ফুটবলপ্রেমীর স্মৃতির মণিকোঠায় থেকে যায়। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহু গান এসেছে, তবে কিছু গান ফুটবলপ্রেমীদের মনে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং দর্শকপ্রিয়তার নিরিখে ইতিহাসের সেরা ১০টি বিশ্বকাপ গান নিয়ে এ প্রতিবেদন।  লিখেছেন- তারেক আনন্দ

ওয়াকা ওয়াকা

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের এই অফিশিয়াল গানটি গেয়েছিলেন কলম্বিয়ান পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা। ‘ওয়াকা ওয়াকা (দিস টাইম ফর আফ্রিকা)’ গানটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল থিম সং হিসেবে বিবেচিত। এর আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী ছন্দ ও সুর আজও বিশ্বজুড়ে যেকোনো ফুটবল উৎসবে শিহরণ জাগায়।

দ্য কাপ অব লাইফ

পপ তারকা রিকি মার্টিনের গাওয়া ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের এই গানটি ফুটবল সংগীতের ধারাকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ‘লা কোপা দে লা ভিদা’ বা ‘দ্য কাপ অব লাইফ’ গানটির ছন্দ ও উদ্দীপনা ফুটবলার এবং দর্শক সবাইকে সমানভাবে উজ্জীবিত করেছিল, যা আজও ফুটবলপ্রেমীদের প্লে-লিস্টের শীর্ষে থাকে।

ওয়েভিং ফ্ল্যাগ

সোমালি-কানাডিয়ান শিল্পী কে’নানের গাওয়া ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ গানটি ২০১০ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান না হলেও, এটি বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন তৈরি করেছিল। একটি কোমল সুরের মাধ্যমে শুরু হয়ে গানটি যেভাবে উদযাপনের রঙে রূপ নেয়, তা ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক গভীর ভালো লাগার জন্ম দেয়।

ড্রিমার্স

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের এই অফিশিয়াল গানটি গেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত বয়ব্যান্ড বিটিএস (ইঞঝ)-এর তারকা জংকুক এবং কাতারি শিল্পী ফাহাদ আল কুবাইসি। আধুনিক পপ ঘরানার এই গানটিতে স্বপ্নকে জয় করার এক অসাধারণ বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুতই বিশ্বসংগীতের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নেয়।

উই আর ওয়ান

ব্রাজিল বিশ্বকাপের (২০১৪) অফিশিয়াল থিম সং ‘উই আর ওয়ান (ওলে ওলা)’ গেয়েছিলেন পিটবুল, জেনিফার লোপেজ এবং ব্রাজিলিয়ান শিল্পী ক্লডিয়া লেইতে। ব্রাজিলের চিরচেনা সাম্বা নৃত্য এবং ফুটবলীয় সংস্কৃতির এক চমৎকার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছিল এই এনার্জেটিক ট্র্যাকে।

লাইভ ইট আপ

২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘লাইভ ইট আপ’ পরিবেশন করেছিলেন নিকি জ্যাম, উইল স্মিথ ও ইরা ইস্ত্রেফি। গানটির প্রযোজনা করেছিলেন ডিপলো। ফুটবলের উৎসবমুখর পরিবেশ এবং বৈশ্বিক ঐক্যকে ধারণ করে তৈরি হয়েছিল এই গানটি।

লা লা লা

২০১৪ সালে শাকিরা এবং কার্লিনহোস ব্রাউনের যৌথ প্রয়াসে মুক্তি পায় ‘লা লা লা’। গানটির ভিডিওতে লিওনেল মেসি, নেইমার, জেরার্ড পিকের মতো বিশ্বসেরা ফুটবলারদের উপস্থিতি এবং এর চমৎকার ড্রাম বিট গানটিকে ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

হায়্যা হায়্যা

কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম অফিশিয়াল গান ‘হায়্যা হায়্যা (বেটার টুগেদার)’। ট্রিনিদাদ কার্ডোনা, ডেভিডো এবং আয়েশার কণ্ঠে এই গানটিতে আরব্য সংস্কৃতির সুরের সঙ্গে আধুনিক পপ ও রেগের এক দারুণ ফিউশন ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, যা বিশ্ববাসীকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানায়।

কালারস

জেসন ডেরুলোর গাওয়া ‘কালারস’ গানটি ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য কোকা-কোলার অফিশিয়াল থিম সং ছিল। গানটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৈচিত্র্য এবং পতাকার রঙকে উদযাপনের মাধ্যমে ফুটবলের সর্বজনীন রূপটি ফুটিয়ে তোলা হয়।

দ্য টাইম অব আওয়ার লাইভস

২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপের এই অফিশিয়াল গানটি গেয়েছিলেন ‘ইল ডিভো’ এবং পপ গায়িকা টনি ব্র্যাক্সটন। অন্যান্য উৎসবমুখর গানের চেয়ে এটি ছিল কিছুটা ধ্রুপদী, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে বিজয়ের গৌরব ও আবেগকে স্পর্শ করেছিল।

ফুটবল আসে, ফুটবল যায়। প্রতি চার বছর পর পর বিশ্ব মেতে ওঠে নতুন কোনো দেশে, নতুন কোনো উন্মাদনায়। তবে এই টুর্নামেন্টগুলোর সুর কখনো হারিয়ে যায় না। শাকিরা, রিকি মার্টিন কিংবা জংকুকের কণ্ঠের এই সুরগুলো ফুটবলারদের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হয়ে এবং কোটি ভক্তের স্মৃতিতে বেঁচে থাকে অনন্তকাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত