প্রসবপরবর্তী ফিজিওথেরাপি

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০১:১৩ এএম

প্রসব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও নারীর শরীরে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন আনে। প্রসবপরবর্তী সময়ে অনেক মা কোমর ব্যথা, পেলভিক ফ্লোর দুর্বলতা, পিঠ ব্যথা, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, সিজারিয়ান বা নরমাল ডেলিভারির পর সেলাইয়ের জায়গায় অস্বস্তি, শরীরের ফিটনেস হারানো ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন। তাই ফিজিওথেরাপি জরুরি।

ফিজিওথেরাপির ধরন

পেলভিক ফ্লোর রিহ্যাবিলিটেশন : প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ ও পেলভিক মাংসপেশি শক্ত করে।

হালকা যোগব্যায়াম ও ব্রিদিং এক্সারসাইজ : মানসিক চাপ কমায়, দেহে শক্তি ফিরিয়ে আনে।

কোর মাংসপেশি রিহ্যাবিলিটেশন : পেটের মাংসপেশি স্বাভাবিক করে।

হাঁটা : ধীরে ধীরে শরীর সক্রিয় করে।

ফিজিওথেরাপি মোডালিটি : ব্যথা কমানোর জন্য।

উপকারিতা : শরীর দ্রুত স্বাভাবিক হয়, ডেলিভারির পর ব্যথা দ্রুত কমে, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমে, বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয়।

নরমাল ডেলিভারির পর ফিজিওথেরাপি

প্রথম ৬ সপ্তাহ :  ডিপ ব্রিদিং দিনে ৩ বার, প্রতিবার ১০ বার অ্যাঙ্কেল পাম্প দিনে ৩ বার, প্রতিবার ১৫ বার  কেগেল এক্সারসাইজ দিনে ৩ বার, প্রতিবার ১০ বার  আস্তে হাঁটা প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

৬ থেকে ১২ সপ্তাহ :  পেলভিক টিল্ট এক্সারসাইজ ১০ বার ২ সেট  ক্যাট, কাউ স্ট্রেচ ১০ বার  ব্রিজিং এক্সারসাইজ ১০ বার  হালকা যোগব্যায়াম ও স্ট্রেচিং।

৩ মাস থেকে ৬ মাস :  অ্যাবডোমিনাল স্ট্রেন্থেনিং এক্সারসাইজ  ওয়াল স্কোয়াট ১০ বার  হিপ ও ব্যাক স্ট্রেন্থেনিং  হালকা কার্ডিও  রিল্যাক্সেশন ও ব্রিদিং এক্সারসাইজ।

সিজারিয়ান ডেলিভারির পর

প্রথম ৬ সপ্তাহ :  ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ দিনে ৩ বার  অ্যানকল পাম্প দিনে ২ বার  হালকা হাত-পা নড়াচড়া  পেটে চাপ পড়ে এমন এক্সারসাইজ না করা।

৬ থেকে ১২ সপ্তাহ :  কেগেল এক্সারসাইজ দিনে ৩ বার  পেলভিক টিল্ট শুয়ে বা দাঁড়িয়ে ১০ বার  লেগ লিফট বালিশ সাপোর্ট নিয়ে প্রতিটি পাশে ১০ বার  হালকা হাঁটা দিনে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

৩ মাস থেকে ৬ মাস :  ব্রিজিং এক্সারসাইজ ডাক্তার অনুমতি পেলে  হিপ ও ব্যাক স্ট্রেন্থেনিং এক্সারসাইজ  অ্যাবডোমিনাল টোনিং এক্সারসাইজ  লাইট কার্ডিও  রিল্যাক্সেশন, যোগ ও শ^াস ব্যায়াম।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এবং প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে নিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত