জাপানে জন্মহারের সর্বোচ্চ পতন

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৭ এএম

জাপানে বার্ষিক জন্ম ও প্রজনন হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমসংখ্যক মানুষের বিয়ে এবং তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিবার শুরুর প্রবণতা কমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাপানের সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে মাত্র ৬ লাখ ৭১ হাজারের কাছাকাছি শিশুর জন্ম হয়েছে। এ হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ হাজার কমেছে। ১৮৯৯ সালে থেকে শুরু হওয়া পরিসংখ্যানের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন রেকর্ড। জাপানে প্রজনন হার কমে রেকর্ড ১.১৪-তে নেমে এসেছে। একজন নারী তার জীবদ্দশায় গড়ে কতজন সন্তানের জন্ম দিতে পারেন তার ওপর ভিত্তি করে এ তথ্য উঠে এসেছে। কোনো দেশের জনসংখ্যার স্থিতিশীলতার জন্য এই হার ২.১ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। এই নিয়ে টানা দশম বছরের মতো জাপানে জন্মহার কমেছে।

জন্মহার কমতে থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই হার আগের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত ঘটেছে। ২০৪০-এর দশকের আগে প্রজনন হার এই পর্যায়ে নামবে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন সরকারি গবেষকরা। দেশটিতে এই প্রবণতার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিয়ের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়া। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে জাপানে বছরে প্রায় ৮ লাখ বিয়ে হতো। কিন্তু বর্তমানে এ হার কমে প্রায় ৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। বিয়ের হার কমে যাওয়ায় সরাসরি জন্মহার হ্রাসে প্রভাব পড়েছে। আনাদোলু বলছে, এমন পরিস্থিতিতেও আশার আলো দেখিয়েছে সমীক্ষা। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জাপানের প্রায় ৮০ শতাংশ অবিবাহিত মানুষ এখনো বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেন। এই পতনের ফলে বিশ্বের জনবহুল দেশের তালিকায় জাপান এক ধাপ পিছিয়ে ১২তম স্থানে নেমে এসেছে। তবে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দাদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩২ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। জাপানের ৪৭টি অঞ্চলের মধ্যে কেবল টোকিও ও ওকিনাওয়ায় জনসংখ্যা বেড়েছে, বাকি ৪৫টিতে কমেছে। এর আগে গত ২৯ মে প্রকাশিত ২০২৫ সালের আদমশুমারির প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, জাপানের বর্তমান জনসংখ্যা ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৪ জন। সংখ্যাটি ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় ৩১ লাখ কম। মূলত অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ, অনিয়মিত কর্মসংস্থান, উচ্চ শিক্ষা ব্যয় এবং শহরের বাড়ির চড়া দাম তরুণ-তরুণীদের বিয়ে ও সন্তান ধারণে নিরুৎসাহিত করছে। পাশাপাশি লিঙ্গবৈষম্য ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতির কারণে সন্তান প্রতিপালনের প্রধান দায়িত্ব নারীর ওপরই বর্তাচ্ছে, যা জন্মহারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

জন্মহার কমায় জাপানি সমাজ দ্রুত প্রবীণ সমাজে পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবীণ, যা ২০৭০ সাল নাগাদ ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে জাপানিদের গড় আয়ু বেড়ে ৮৫ বছর হয়েছে। আর শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখে পৌঁছেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই পরিস্থিতিকে ‘নীরব জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি তরুণদের আয় বৃদ্ধি এবং একাকী সন্তান লালন-পালনকারীদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকার ইতিমধ্যে শিশু ভাতা, মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি নিতে উৎসাহিত করছে। কর্মী সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতে অটোমেশন, রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এমনকি ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদেরও কাজে যুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত