খামেনির জানাজা দাফনের তারিখ ঘোষণা ইরানের

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফনের তারিখ ঘোষণা করেছে ইরানি কর্র্তৃপক্ষ। আলি খামেনির জানাজা আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। পরে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। গতকাল শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে প্রথম জানাজা ও তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে ৭ জুলাই দেশটির পবিত্র শহর কোমে আরেকটি জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শোক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জন্মস্থান এবং শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র শহর মাশহাদে আরেক দফা জানাজার পর ইমাম রেজার মাজারে তাকে সমাহিত করা হবে। সেখানেই তার বাবার কবরও রয়েছে। খামেনির মৃত্যু ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নেতৃত্বে তিন দশকেরও বেশি সময়ের এক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছে।

এর আগে ইরানের সরকার জানিয়েছিল, ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররমের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল, যা চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়। তবে গত বৃহস্পতিবার তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি জানান, ইরানিদের ইমাম হোসেন (রা.)-এর স্মরণে পবিত্র আশুরার ধর্মীয় রীতি পালনের সুযোগ দিতে রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানটি মহররমের প্রথম ১০ দিন পর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথমদিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার নিহত হন প্রায় ৩৬ বছর ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একই হামলায় নিহত হন তার পরিবারের আরও অনেক সদস্য। এ ছাড়া তার পুত্র ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও এ হামলায় আহত হন।

মূলত চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা আয়োজনের প্রক্রিয়াটি বারবার পিছিয়ে যায়। এর আগে এপ্রিল মাসে তার স্মরণে একটি সংক্ষিপ্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও তা পূর্ণাঙ্গ জানাজা ছিল না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, একটি জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে কর্র্তৃপক্ষ।

এদিকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই এ বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, দুই পক্ষই চুক্তির খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার এক্স পোস্টে বলেছেন, চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে অঞ্চলটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান একটি চূড়ান্ত চুক্তির ‘একেবারে কাছাকাছি’ পৌঁছাতে পেরেছে।

যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে একমত হওয়ার পাশাপাশি চুক্তির ভাষা কী হবে তা নিয়েও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত শুক্রবার এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, এর আগে কখনো শান্তির এতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান একটি ‘চূড়ান্ত খসড়া চুক্তি এবং সেটির ভাষা কী হবে’ সে বিষয়ে একমত হয়েছে। এমন এক সময়ে আলোচনায় এ অগ্রগতির খবর এলো, যখন মাত্র গত সপ্তাহেই ইরান এবং প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী সময়ে শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, এই চুক্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর থেকেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ইরানের নৌ-পরিবহনের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে ৬০ দিনের একটি গভীর আলোচনা প্রক্রিয়া, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যা পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রধান উপাদান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত