আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ নয় : অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:০০ এএম

দেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হলেও সরকার এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেবে না। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল শনিবার এক সম্মেলনে এ কথা বলেন।

‘বাণিজ্য, প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির রোডম্যাপ ২০২৬ : ঝুঁকি মোকাবিলা, স্থিতিস্থাপকতাকে কাজে লাগানো’ শীর্ষক সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো নিয়োগ নয়। কিন্তু এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একটু ভালো হওয়া দরকার।’

দেশে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার জন্য একটি কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এ সম্মেলনের আয়োজন করে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও ব্যবসায় গতি আনতে হলে সব খাত ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত করাই’ (ডিরেগুলেশন) মূল চাবিকাঠি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার এ কাজটি বিচ্ছিন্নভাবে করা যায় না। এক্ষেত্রে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হয়, তেমন ব্যবস্থা দরকার। কেউ ব্যবসার লাইসেন্স চাইলে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের আপত্তি না থাকলে ‘সাতদিনের মধ্যে’ তা দেওয়া উচিত। কোনো কর্তৃপক্ষের আপত্তি না থাকলে এবং কেউ কিছু না বললে, সাতদিন পর ধরে নেওয়া হবে লাইসেন্স অনুমোদিত হয়েছে, এমন ব্যবস্থা থাকা দরকার। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত’ করার বিষয়টি এগিয়ে নিতে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নের কথা শুধু বললে হবে না। এ বাজারে লেনদেনের জন্য নতুন অনেক ‘পণ্য’ প্রয়োজন। কেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে সরকারের মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে টাকা দিতে হবে, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনসহ অনেক সরকারি সংস্থা তাদের লাভজনক প্রকল্পের জন্য পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহ করবে, এমন সুযোগ থাকা দরকার।

সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ব্যবসার সুবিধা উন্নত করতে সরকার গভীর ও কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিনটি মূল লক্ষ্য স্থিতিশীলতা, সংস্কার এবং উন্নয়ন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতাকে নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করতে সরকারের একটি সুস্পষ্ট রূপকল্প রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক  কূটনীতির ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করতে হলে এই রূপকল্পকে বাস্তব রূপ দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমাইউন কবির বলেন, বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো দরকার। একই কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা কূটনীতির একটি রীতি এবং সরকার তা-ই করতে চায়।

ভারতের সঙ্গে গত ১৫ বছর সম্পর্ক জনগণের স্বার্থে নয়, একতরফা ছিল, এমনটি উল্লেখ করে হুমাইউন কবির বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক স্থাপন করতে চায়।

ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি দৃশ্যমান করা হবে, এমনটি জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, কিন্তু এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পরিবেশ অবশ্যই অনুকূল হতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিএনপির নির্বাচনী স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’-এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে অন্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে একযোগে কাজ করা যায়, এমন পররাষ্ট্রনীতি সরকার অনুসরণ করবে।

বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা, চলমান সংস্কার কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য এখানে কী কী সুযোগ আছে, সে বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত