বিশ্বকাপে যেন মেতেছে গোল উৎসবের দিনে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয়ের পর দিনের আরেক ম্যাচে এবার প্রতিপক্ষকে গোলের বন্যায় ভাসাল সুইডিশরা। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৫-১ ব্যবধানে বড় জয়ে আসরে দাপুটে শুরু হলো গ্রাহাম পটারের দলটির।
মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরেই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই তিউনিসিয়ার রক্ষণের কঠিন পরিক্ষা নিতে থাকে সুইডেন। যার ধারাবাহিকতা স্রেফ ৭ মিনিটের মাথাতেই লিড পায় তারা। দূরপাল্লার দারুণ এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন আয়ারি। ম্যাচ ৩০ মিনিটে যেয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইসাক। সেখান থেকে ম্যাচে নিজেদের ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে তিউনিসিয়া। করে বসে গোলও। তবে ৪৩ মিনিটে হানিবাল মেজব্রির বাড়ানো ক্রসে হেডে বল জালে জড়িয়ে রেকিকের সেই গোলটি কেবলই কমিয়েছে ব্যবধান।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় সুইডিশরা। এদিকে ৫৯ মিনিটে তিউনিসিয়ান গোলরক্ষক শামাখের এক মারাত্মক ভুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় সুইডেন। বল হাত দিয়ে পাস করার সময় তিনি লক্ষ্য করেননি যে সুইডিশ স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক একদম কাছেই ওত পেতে আছেন। ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে এসে প্রতিপক্ষ ফুটবলার স্খিরির পা থেকে বল কেড়ে নেন ইসাক এবং বুদ্ধিদীপ্ত পাসে তা বাড়িয়ে দেন পাশে থাকা ইয়োকেরেসের দিকে। সেখানে কোনো ভুল না করে বল জালে জড়িয়ে উৎসবে মাতেন ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এদিকে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের জালে আরও দুবার বল জড়ায় সুইডেন। ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে নামার মাত্র ১৮ সেকেন্ডের মাথাতেই গোল করে বসেন সভানবার্গ। ম্যাচে প্রথমবারে বল ছুঁয়েই মাতেন গোল উদযাপনে। তবে সাইডলাইনে অফসাইডের ইশারা করেন রেফারি। পরে অবশ্য ভিএআর রুমে দীর্ঘক্ষণ পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত আসে গোলের।
আয়ারিকে দিয়ে শুরু করে গোল উৎসবের শুরু। তাকে দিয়েই হয়েছে শেষ। নিজ বাবার দেশ তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যোগ করা সময়ে করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। এতে ৫-১ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইডেন।
বিশাল এই জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এফ-এর শীর্ষে এখন সুইডেন। গ্রুপের আরেক ম্যাচ ড্র হওয়ায় সমান পয়েন্ট নিয়ে দুই ও তিনে আছে জাপান ও নেদারল্যান্ডস। এবং তলাতিতে আপাতত তিউনিসিয়া।