লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশ-ইনের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনতা। এ সময় পুশইনে ব্যর্থ হয়ে বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাটগ্রাম উপজেলার কালীরহাট সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
সোমবার (১৫ জুন) ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুর রাজ্জাক পুশইনের চেষ্টা ও তা প্রতিহত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি ও সীমান্ত সূত্র জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রধান পিলার ৮৫৫ নম্বরের বিপরীতে বাংলাদেশের পাটগ্রাম উপজেলার কালীরহাট সীমান্ত এবং ভারতের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার পানিশালা ও দাওয়ারিমারী সীমান্ত এলাকা অবস্থিত।
গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে ওই সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার সঙ্গে স্থাপিত শক্তিশালী সার্চলাইটগুলো হঠাৎ বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এর কিছুক্ষণ পর ভারতের ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দাওয়ারিমারী ক্যাম্পের টহল সদস্যরা ৩ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে কাঁটাতারের গেট (ফটক) দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর (পুশইন) চেষ্টা চালায়।
সার্চলাইট বন্ধ ও সীমান্তের সন্দেহজনক নড়াচড়া টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক অবস্থান নেয় ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) কালীরহাট ক্যাম্পের টহল দল। বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও দ্রুত সীমান্তে এসে অবস্থান নেন। বিজিবি ও স্থানীয়দের এমন সম্মিলিত ও দৃঢ় অবস্থানের মুখে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।
অভিযোগ উঠেছে, পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিএসএফ সদস্যরা পরপর দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর পুশইনের জন্য নিয়ে আসা ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তারা।
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, "তিনজন ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তর থেকে এনে কাঁটাতারের বেড়ার সার্চলাইট বন্ধ করে গেট দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবির অত্যন্ত সক্রিয় ও কড়া অবস্থানের কারণে কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটতে পারেনি। সীমান্তজুড়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"
নবম পে-স্কেল, বেতন-ভাতায় চূড়ান্ত বরাদ্দ!