তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলদাতা ইয়াসিন আয়ারির ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল বিশ্বে। ম্যাচের ৭ মিনিটে তিউনিসিয়ার ডিফেন্সের একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার এক দুর্দান্ত ভলিতে প্রথম গোল করেন ২০ বছরের তরুণ। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম ম্যাচেই এমন এক নান্দনিক গোল! যেকোনো তরুণ ফুটবলারের জন্য এটি এক স্বপ্নের মুহূর্ত। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন উল্লাস, সতীর্থরা তাকে জড়িয়ে ধরতে ছুটে আসছেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাঠের মধ্যে স্থবির দাঁড়িয়ে রইলেন ব্রাইটনের এই তরুণ তারকা। কোনো উল্লাস নেই, নেই কোনো আস্ফালন। উল্টো দুই হাত তুলে তিউনিসিয়ার দর্শকদের কাছে এক নীরব ক্ষমা চাইলেন তিনি।
কারণ, গোলটি তিনি করেছেন সুইডেনের হয়ে, কিন্তু যার জালে বল জড়িয়েছেন সেটি তার বাবার জন্মভূমি, তার নিজের শেকড়।
ইয়াসিন আয়ারির জন্ম সুইডেনের সোলনা শহরে হলেও, তার ধমনিতে বইছে তিউনিসিয়ান ও মরোক্কান রক্ত। তার বাবা আজ্জুজ আয়ারি একজন তিউনিসিয়ান। ২০২১ সালের দিকে তিউনিসিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন যখন ইয়াসিনকে তাদের জাতীয় দলে খেলার প্রস্তাব দেয়, তরুণ ইয়াসিন তখন তিউনিসিয়ার হয়ে মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুতই ছিলেন।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে এক পরম শিক্ষকের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তার বাবা আজ্জুজ। তিনি ছেলেকে মনে করিয়ে দেন এক চরম সত্য ও কৃতজ্ঞতার পাঠ।