নববধূকে অপহরণ করে ধর্ষণ

এসপির হস্তক্ষেপে ১৭ দিন পর মামলা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ এএম

নীলফামারীর ডিমলায় এক নববধূকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ঘটনার ১৭ দিন পর মামলা হওয়ার ৬ ঘণ্টা পরই গত রবিবার রাতে ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার খগাখরিবাড়ি ইউনিয়নের জোড়জিগা এলাকার মৃত খুদু মাহমুদের ছেলে অলিয়ার রহমান (৪২) ও একই এলাকার তফদ্দি মামুদের ছেলে জাহিদ ইসলাম (৪৫)।

মামলায় অলিয়ার ও জাহিদসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা অন্য তিন আসামি হলেন ওই এলাকার আমির হোসেন ওরফে কালা (৪০), রবি মামুদ (৩৫) ও আমজাদ হোসেন (৩৫)। 

গতকাল সোমবার ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদী ওই নারীর স্বামী জানান, তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। তিনি গত ২৭ মে রাত ৯টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফিরে দেখেন স্ত্রী নেই। পরে লোকজন নিয়ে কোথাও খুঁজে না পেয়ে ডিমলা থানায় বিষয়টি জানান। গত ২ জুন সন্ধ্যায় স্ত্রীকে ডিমলা বাসস্ট্যান্ডে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওইদিনই তাকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনা শুনে ডিমলা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। কিন্তু আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি । তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে রবিবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানাই। তার হস্তক্ষেপে বিকেলে পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করা হয়।’

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই লোকগুলো একই গ্রামের প্রতিবেশী। তারা আমাকে কুপ্রস্তাব দিত। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওইদিন আমাকে জোর করে বাড়ি হতে তুলে নিয়ে যায়। ছয় দিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের সময় তারা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২ জুন সন্ধ্যায় তারা আমাকে ডিমলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত