এবার পরিপূর্ণ ভিন্ন অবতারে দেখা দেবেন দক্ষিণী তারকা সামান্থা রুথ প্রভু। তার বহুল প্রতীক্ষিত তেলেগু পারিবারিক অ্যাকশন-ড্রামা ‘মা ইন্তি বাঙারাম’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শিত হয়েছে। আগামী ১৯ জুন ভারতের প্রেক্ষাগৃহগুলো একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সিনেমাটি। এই ফ্যামিলি অ্যাকশন ড্রামাটি একদিকে যেমন দর্শকের জন্য ভরপুর বিনোদন নিয়ে আসছে, অন্যদিকে সামান্থার ক্যারিয়ারে যোগ করতে চলেছে এক নতুন মাইলফলক।
সিনেমাটির মূল আকর্ষণ এর ছকভাঙা ও নারীকেন্দিক গল্প। এখানে সামান্থাকে দেখা গেছে এমন এক নতুন গৃহিণীর চরিত্রে, যে সংসারী বা আদর্শ পুত্রবধূ হওয়ার সব চেষ্টায় ব্যর্থ। সে রাঁধতে পারে না, ঘর গোছাতে পারে না, এমনকি মুখে লাগামও দিতে জানে না! কিন্তু এই সাধারণ রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে সেই গৃহিণীর এক রহস্যময় অতীত। পরিবারের ওপর যখনই কোনো বড় বিপদ আসে, নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ না করেই সে হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য। অতীত থেকে আসা এক ভয়ংকর শত্রুর মুখোমুখি হয়ে সে শান্ত পুত্রবধূর খোলস ছেড়ে এক রুদ্রমূর্তি ধারণ করে।
‘মা ইন্তি বাঙারাম’ পরিচালনা করেছেন ‘ওহ! বেবি’ সিনেমার পরিচালক নন্দিনী রেড্ডি। সামান্থার ভেতরের সাবলীল ও সেরা অভিনয় বের আনতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন নন্দিনী। বিশেষ করে বাসের ভেতর শাড়ি পরা সামান্থার সেই পোস্টার লুকটি যখন পর্দায় জীবন্ত হয়ে ওঠে, দর্শক হাততালি দিতে বাধ্য হন। সামান্থার চোখেমুখে ছিল তীব্র দৃঢ়তা।
সামান্থা রুথ প্রভু বরাবরই চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে ভেঙেছেন, আবার গড়েছেন। আসন্ন সিনেমায় তিনি কোনো বডি ডাবল ছাড়াই প্রায় সব ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্য সম্পন্ন করেন। এতে চরিত্রটির প্রতি তার সততা ও দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে। সহ-অভিনেতা হিসেবে গুলশান দেবাইয়া ও দিগন্ত নিজেদের চরিত্রে ছিলেন দারুণ সাবলীল। সিনমোটির প্রতিটি দৃশ্যকে জমজমাট করে তুলেছে সন্তোষ নারায়ণনের আবহ সংগীত।
নির্মাতা রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে বিয়ের পর এটি সামান্থার অন্যতম সেরা কাজ। যারা গতানুগতিক ড্রামার বাইরে ভরপুর অ্যাকশন, টুইস্ট ও ইমোশনের পারফেক্ট মেলবন্ধন দেখতে আগ্রহী, তাদের জন্য একেবারে পারফেক্ট সিনেমা ‘মা ইন্তি বাঙারাম’।