হয়রানির কারণে দিল্লি থেকে ফিরে আসা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ

বললেন তথ্য উপদেষ্টা

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৬:৪৯ এএম

ভারত সফরে গিয়ে সেখানকার ইমিগ্রেশনে হয়রানির কারণে দেশে ফিরে আসা ‘তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, নীতি ও কৌশলগতবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা তাকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অপেক্ষায় রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তাকে হয়রানি করা হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হলো, আমাদের ইনস্ট্যান্ট (তাৎক্ষণিক) একটা প্রতিবাদ [করা] দরকার।’

ভারত মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোর জোট ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) একটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে তার দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি গত শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে দেশটির সরকারকে জানায়। এর ৪৮ ঘণ্টা পর গত রবিবার উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানকার ইমিগ্রেশন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের প্রবেশ করতে দিলেও উপদেষ্টাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। পরে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন।

দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টাকে হয়রানির ঘটনায় ঢাকায় ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবন বাঢ়েকে গত সোমবার তলব করে সরকারের তীব্র অসন্তোষের কথা জানানো হয়।

উপদেষ্টা গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, একজন ব্যক্তি হিসেবে নয়, সরকার ও রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে তার সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে তার মনে হয়েছে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হওয়া দরকার। সে কারণে তিনি ফেরত আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে ‘অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি’ ও ‘হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে তার মনে হয়েছে, রাষ্ট্র হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে একটা ‘সিগনেচার’ থাকা দরকার।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, একটা বার্তা এই দেশ ও এই দেশের বাইরে যাওয়া দরকার যে, এটা শেখ হাসিনার সরকার না। এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার।’

তবে দিল্লির ঘটনার মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি নেতিবাচক কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক, সেটি উদ্দেশ্য নয়, এটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রভাব ভবিষ্যতে দুই দেশের কাজকর্মের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না।

পরে ভারত থেকে আমন্ত্রণ পেলে যাবেন কি না এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি যদি যথাযথ আমন্ত্রণ পাই, আমি নিশ্চয়ই যাব। আমি ভারতের সঙ্গে এনগেজ করতে চাই, তবে সেটা যৌক্তিকভাবে (লজিক্যালি অ্যান্ড রেশনালি)।’ উপদেষ্টা জানান, তিনি মনে করেন, সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আরও অনেক কিছুতে উন্নতি করার সুযোগ আছে।

তথ্য উপদেষ্টা দিল্লি ও কলম্বোতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার যথাক্রমে রিয়াজ হামিদুল্লাহ ও আন্দালিব ইলিয়াসের প্রশংসা করে বলেন, তারা উভয়েই দিল্লি ও কলম্বো বিমানবন্দরে তার (উপদেষ্টা) অবতরণ থেকে ফেরত যাত্রা পর্যন্ত সার্বক্ষণিকভাবে ছিলেন।

বিশেষ করে দিল্লিতে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহর তৎপরতার বিষয়ে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশনের অন্য কর্মকর্তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। হাইকমিশনার নিজে বিষয়টির তদারকিতে ছিলেন। তিনি নিজেও ওদের (ভারতীয়) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এটা হয়তো তিনি না করলেও পারতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত