‘পদত্যাগে প্রস্তুত’ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী  

আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১২:২৭ এএম

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবারই পদত্যাগ করতে পারেন আর তার বিদায়ের একটি সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম ‘অবজারভার’।

গত কয়েক মাস ধরে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, শুক্রবার তা আরও তীব্র হয়। এদিন তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টের একটি উপনির্বাচনে জয়ী হন, যা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথ তৈরি করে দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্টারমার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অবকাশ যাপনের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন ‘চেকার্স’-এ স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

তবে লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা ধারণা করছেন, সোমবারের মধ্যেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্পষ্ট বিবৃতি আসতে পারে।

অবশ্য এক সরকারি সূত্র জানায়, স্টারমার তার কাজে মগ্ন আছেন আর এ বিষয়ে আগে দেওয়া তার বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।

শুক্রবার স্টারমার বলেছেন, তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি লেবার দলকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিয়েছিলেন স্টারমার। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কিছু কেলেঙ্কারি এবং বারবার নীতি পরিবর্তনের কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা হারান।

ভোটারদের বড় একটি অংশের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি স্টারমার দিয়েছিলেন, তা তিনি পূরণ করতে পারছেন না।

তিনি যদি পদত্যাগ করেন বা অপসারিত হন, তবে গত এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ঘটনা ঘটবে। বিগত প্রায় দুই শতাব্দীর মধ্যে এটি হবে সবচেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সরকার প্রধান পরিবর্তনের রেকর্ড। এটি জনসেবার উন্নতি এবং অবৈধ অভিবাসনের মতো সমস্যা মোকাবিলায় সরকারগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রতি সৃষ্ট ক্ষোভের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত